সংকট নিরসনে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা
উপাচার্য পুনর্বহালে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় চুয়েট
- উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে সরকারের সঙ্গে বৈঠক
- শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউনে একাডেমিক স্থবিরতা অব্যাহত
- সংকট সমাধানে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমন্বয়ে পরিচালিত আন্দোলনের ত্রয়োদশ দিনে এই অগ্রগতির তথ্য প্রকাশ করা হয়।
৪ অক্টোবর, রবিবার চুয়েটের উপাচার্য ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এই আলোচনার আনুষ্ঠানিক বিবরণ গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক এবং পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির।
তিনি জানান, শনিবার চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সমন্বিত প্রতিনিধি দল সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনায় অংশ নেন। সেখানে চুয়েটের বর্তমান অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে দ্রুত পুনর্বহালের জোরালো দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিনিধিরা এই দাবির সপক্ষে প্রাসঙ্গিক বাস্তবতা ও টেকনিক্যাল যুক্তিগুলো সরকারের সামনে বিশদভাবে তুলে ধরেন।
সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির আরও জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আন্তরিকতা, ধৈর্য ও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন এবং বিষয়টির সংবেদনশীলতা অনুধাবন করেছেন। উপস্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহ বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলে তাঁরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। তীব্র আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান, সেমিস্টার পরীক্ষা, গবেষণাগার ও ল্যাব পরিচালনাসহ সমস্ত একাডেমিক কার্যক্রম টানা ১৩ দিন ধরে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও দেওয়াল লিখনসহ প্রযুক্তি ক্যাম্পাসে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংহতিতে আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পাওয়ায় এখন সবাই সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় আছেন।
এদিকে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর, সোমবারের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ১ দফা দাবি আদায়ে এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যৌথ ব্যানারে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক দাবির পাশে থাকা চুয়েট শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন শিক্ষার্থীরা; একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কমপ্লিট শাটডাউনও অব্যাহত থাকবে।
//ডিবিটেক/করেসপন্ডেন্ট/এসএমপি/বিপিসি//





