দেশজুড়ে ৫জি-প্রস্তুত নেটওয়ার্ক

চট্টগ্রাম দিয়ে রবির ৪জি আধুনিকায়ন শেষ

  • চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে ৩৫০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন
  • ৪জি অভিজ্ঞতা বেড়েছে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত
  • নতুন অবকাঠামোয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমেছে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ

চট্টগ্রাম দিয়ে রবির ৪জি আধুনিকায়ন শেষ
৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৯  

দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও সক্ষম, নির্ভরযোগ্য ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির উপযোগী করতে দেশব্যাপী ৪জি নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন কার্যক্রমের শেষ ধাপও সম্পন্ন করেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ১৮০ দিনে ৩ হাজার ৫০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এই বৃহৎ নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচি। রবির ভাষ্য অনুযায়ী, এতে দেশজুড়ে ‘গিগা গ্রিন’ প্রযুক্তিনির্ভর ৪জি ও ৫জি-প্রস্তুত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।

৪ অক্টোবর, রবিবার চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ে আয়োজিত ‘সেলিব্রেশন অব রবির ৪জি নেটওয়ার্ক মডার্নাইজেশন ইন চট্টগ্রাম’ অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রূপান্তর কার্যক্রম শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

রবি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে আধুনিকায়নের পুরো কাজ ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এ সময়ে গ্রাহকদের সেবায় প্রায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। আধুনিকায়নের ফলে তিন অঞ্চলে গ্রাহকদের ৪জি অভিজ্ঞতা গড়ে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ মানুষ উন্নত ইনডোর ৪জি কাভারেজের আওতায় এসেছেন।

নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক এমআইএমও (মাল্টিপল ইনপুট মাল্টিপল আউটপুট) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তিটি একাধিক অ্যান্টেনার মাধ্যমে একই সময়ে সংকেত পাঠানো ও গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ায়। রবির দাবি, এর ফলে সিগন্যালের মান ও নেটওয়ার্ক কাভারেজ শক্তিশালী হয়েছে এবং গ্রাহকদের জন্য আরও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

আধুনিকায়নের আরেকটি দিক হলো জ্বালানি দক্ষতা। রবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেটওয়ার্ক পরিচালনার উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

চট্টগ্রামে ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম দেশের বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। এই অঞ্চলে আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা বাণিজ্য, শিল্পায়ন এবং স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, স্বল্প সময়ে এত বড় পরিসরে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন সম্পন্ন করা একটি উল্লেখযোগ্য প্রকৌশলগত অর্জন। সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রবির বিনিয়োগ বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করবে।

বৃহত্তর ঢাকার পর চট্টগ্রাম

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়; বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য উচ্চমানের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জিয়াদ সাতারা আরও বলেন, সম্প্রতি বৃহত্তর ঢাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়নের পর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এই অর্জন রবির নেটওয়ার্ক উৎকর্ষতার যাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

এর আগে বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে রবির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দ্রুততম নেটওয়ার্ক রূপান্তর প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়। রবির দাবি, ওই উদ্যোগে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে, কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে এবং প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের ইনডোর নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ তিন গুণ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে।

দেশব্যাপী এই নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন কার্যক্রমের সমাপ্তিকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ ৫জি-ভিত্তিক সংযোগ সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে রবি।

//ডিবিটেক/জেআরপি//এসএমপি/এমভিএনও//