বিটিআরসিতে ২৯ জনের ‘অবৈধ’ নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রচেষ্টায় হাইকোর্টের রুল

বিটিআরসিতে ২৯ জনের ‘অবৈধ’ নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রচেষ্টায় হাইকোর্টের রুল
৯ মার্চ, ২০২৬ ১৪:২৮  

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) রাজস্ব খাতে ২৯ জন কর্মকর্তার বিতর্কিত নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৯ মার্চ, সোমবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল নিশি জারি করেন।

রুলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক এবং অডিট উইংয়ের যুগ্ম সচিবকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের বারবার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন ওই ২৯ জনের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে, অডিট আপত্তি ও গুরুতর আর্থিক অনিয়মের (এসএফআই) প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ওই কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গত ৩ নভেম্বর যে ডিডিপি মিটিং ডাকা হয়েছিল, তার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা নিয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।

এর আগে ৮ মার্চ, রবিবার বিটিআরসির ছয়জন উপ-পরিচালক এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন।

মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিটিআরসির নিজস্ব নিয়োগ বিধিমালা অমান্য করে ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে ওই ২৯ জনকে রাজস্ব খাতে আত্মীকরণ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে অডিট রিপোর্টে এই নিয়োগে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও বয়সের পার্থক্যের তথ্য উঠে এলেও রহস্যজনক কারণে বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ বরাবরই নীরব থেকেছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের টাস্কফোর্সের শ্বেতপত্রেও এই নিয়োগগুলোকে সরাসরি ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জানান, বিধিমালা লঙ্ঘন করে যাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অডিট অধিদপ্তর অবৈধ বলে চিহ্নিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পদোন্নতি দেওয়ার চেষ্টা প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার পরিচয় দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ৩ নভেম্বরের ডিডিপি মিটিংয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বিতর্কিত পদোন্নতির যে অপপ্রয়াস চালানো হয়েছিল, আদালত আজ মূলত সেই নিষ্ক্রিয়তা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন। সংস্থার অন্দরে যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার এই প্রবণতা দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অস্বচ্ছতাকে সামনে নিয়ে এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকারের অডিটে অনিয়ম ধরা পড়লে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর অডিট আপত্তির বিষয় বিশদ ভাবে জানানো হয়। নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগ বিষয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখা চাওয়া হলেও সেটা নিয়ে টালবাহানা করে ব্যাখ্যা প্রদান থেকে বিরত হলে পরে সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর  ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসি-কে ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি দেয়। অন্তবর্তী সরকারের সময় গঠিত টাস্কফোর্স এর শ্বেতপত্রেও ২৯ জনের নিয়োগ অনিয়ম বিষয়ে বিশদ বর্ণনা করা হয়। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিটিআরসি-কে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়। অজানা কারণে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তাদের নতুন করে পদন্নোতি দিতে ডিপিসি গঠন করে। ডিপিসি’র আপত্তি সত্ত্বেও ঘন ঘন মিটিংয়ের তারিক পরিবর্তন করে তাদেরকে পদন্নোতি দেয়ার প্রক্রিয়া চালু রাখে। এমন পরিস্থিতিতে ছয় উপ-পরিচালক রিট করলে আজ শুনানি শেষ মাননীয় আদালত এই রুল জারি করা হয়।  

ডিবিটেক/এমএআর/আইএইচ