আট দিন পর ফের উৎপাদন
রক্ষণাবেক্ষণে ফিরল রামপালের ইউনিট
- যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালু
- প্রাথমিক উৎপাদন ৩৬৮.৭৫ মেগাওয়াট
- দুই ইউনিটই এখন গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে
যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ শেষে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। আট দিন বন্ধ থাকার পর রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে ইউনিটটি চালু হয়। বর্তমানে ইউনিটটি প্রাথমিকভাবে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। রামপাল কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, ত্রুটি মেরামতের পর ইউনিটটি ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়াবে এবং জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কোনো ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক। ত্রুটি শনাক্তের পর দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে দুটি ইউনিটই চালু রয়েছে এবং কেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত আছে।
রামপালের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা ৬৫৮ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিটের সক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। তবে পুনরায় চালুর পর দ্বিতীয় ইউনিটটি সরাসরি পূর্ণ সক্ষমতায় না গিয়ে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট থেকে উৎপাদন শুরু করেছে। পরিচালন পরিস্থিতি ও গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো হবে।
দুটি ইউনিটের মোট স্থাপিত ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি দুই ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড গঠিত হয়।
প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পের প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর উৎপাদনে যায়। দ্বিতীয় ইউনিট পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর।
দ্বিতীয় ইউনিট সচল হওয়ায় রামপাল কেন্দ্রের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন ইউনিটের স্থিতিশীল পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই ধারাবাহিক উৎপাদনের প্রধান বিষয়।
//ডিবিটেক/ইডিএন/এমএসআই/বিপিও//





