বাণিজ্যে প্রযুক্তির নতুন সুযোগ
ঢাকায় শুরু ৩০তম ইউএস ট্রেড শো
- ৫ থেকে ৭ নভেম্বর চলবে তিন দিনের আয়োজন
- মার্কিন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রদর্শনী
- জ্বালানি, স্বাস্থ্য, আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে আলোচনা
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। তিন দিনের এ আয়োজনে মার্কিন পণ্য ও সেবার পাশাপাশি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। প্রদর্শনীর সঙ্গে থাকছে জ্বালানি নিরাপত্তা, চিকিৎসা প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), ডিজিটাল অর্থনীতি এবং পারস্পরিক বাণিজ্য নিয়ে ধারাবাহিক সেমিনার ও আলোচনা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের আয়োজন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস যৌথভাবে এ ট্রেড শোর আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ইউএস ট্রেড শোর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মাধ্যমে ব্যবসার নতুন সুযোগ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, বিশেষ করে শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দেয়। ইউএস ট্রেড শো দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বিশ্বমানের পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। দুই দেশের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারের সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এবারের ৩০তম আয়োজন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণে অ্যামচেমের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে অর্থবহ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি, নতুন অংশীদারত্ব উৎসাহিত এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় অ্যামচেম।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্ব
এবারের ট্রেড শোতে বিভিন্ন খাতের মার্কিন পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা নতুন উদ্ভাবন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি মতবিনিময়, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে ধারাবাহিক সেমিনার ও আলোচনা। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, নারী নেতৃত্ব, বিদেশে বিনিয়োগ, পারস্পরিক বাণিজ্য এবং আইসিটি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এসব অধিবেশনে নীতিনির্ধারক, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ, দক্ষতা বিনিময় এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, জ্বালানি খাত এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষতার বিনিময় বাংলাদেশের শিল্প ও সেবা খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইউএস ট্রেড শো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ও সেবা তুলে ধরা এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬ আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
//ডিবিটেক/কেএইচআইপি/এসএমপি/এমভিএনও//





