সাশ্রয়ী মডেল বাস্তবায়নে উদ্যোগ
হৃদরোগ পুনর্বাসনে সহায়তা দেবে সরকার
- হৃদরোগ পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক মানের স্থানীয় মডেল গড়তে সহায়তার আশ্বাস
- দেশে মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশ হৃদরোগজনিত জটিলতায় ঘটে
- পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণায় শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনে গুরুত্ব
হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক মানের, সাশ্রয়ী ও বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন বা হৃদরোগ পুনর্বাসন মডেল বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ নীতিগত ও কাঠামোগত সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশে হৃদরোগ-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলে ‘সাশ্রয়ী হৃদরোগ পুনর্বাসন: সমন্বিত কৌশলগত প্রচার ও গবেষণা’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের স্টেকহোল্ডার সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৭ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। এসব রোগের মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান মৃত্যুর কারণ। ২০২২ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর ২১ শতাংশ হৃদরোগজনিত জটিলতায় ঘটে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগের প্রকোপও বাড়ছে।
তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামভিত্তিক কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন পরবর্তী সময়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়, হাসপাতালে পুনঃভর্তির হার হ্রাস করে এবং রোগীদের জীবনমান উন্নত করে। তাই হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. এম এ মুহিত বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসা শুধু ক্লিনিক্যাল সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিক স্বাস্থ্যসংকট, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় ভোগেন। বিশেষ করে কর্মক্ষম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ গবেষণায় শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা সময়োপযোগী উদ্যোগ।
গবেষণা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষকদের কাজ শুধু গবেষণাগার কিংবা বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গবেষণার ফলাফলকে বাস্তবসম্মত জনস্বাস্থ্য নীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি এ গবেষণার মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে হৃদরোগ পুনর্বাসনের একটি কার্যকর ও টেকসই মডেল গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সভায় গবেষণা প্রকল্পের প্রধান এবং যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রড এস টেলর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জে এম এ হান্নান।
সভায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা অংশ নেন।
//ডিবিটেক/এমডিভি/এসএমই/এমআইএসটি//





