কারখানার ছাদ ব্যবহার করে ১৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা: সিপিডি

পোশাক খাতের ছাদ থেকে সৌরবিদ্যুৎ: কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ?

  • পোশাক খাতের ৩,৩২০টি কারখানার ছাদ ব্যবহার করে ১৭৬৮.৩ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব
  • অবিলম্বে সোলার স্থাপনে ১৮ কোটি ৮২ লাখ ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানায় সিপিডি
  • ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহারকে এই সম্ভাবনাময় খাতে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

পোশাক খাতের ছাদ থেকে সৌরবিদ্যুৎ: কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ?
২১ আগষ্ট, ২০২৬ ০০:৩৪  

দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর ছাদ ব্যবহার করে ১ হাজার ৭৬৮ দশমিক ৩ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে গবেষণায় জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ সোলার ইন আরএমজি সেক্টর: ইনভেস্টমেন্ট অপারচুনিটি আন্ডার চাইনিজ এফডিআই লেন্স’ শীর্ষক সেমিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহাম্মেদ ভূঁইয়া।

গবেষণায় দেখা গেছে, পোশাক খাতের ৩ হাজার ৩২০টি কারখানায় ৯৭ লাখ ২৫ হাজার ৫৯১ বর্গমিটার ব্যবহারযোগ্য ছাদ রয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি বড়, ৩২০টি মাঝারি ও ১ হাজার ৯২২টি ছোট কারখানা রয়েছে। ছোট কারখানার ছাদ থেকে ৪৮৪.৭, মাঝারিতে ৬৩৭ এবং বড় কারখানায় ৬৪৬.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। ৩০০ কিলোওয়াট বা তার বেশি সক্ষমতার ২,৩০৩টি কারখানায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১৮ কোটি ৮২ লাখ মার্কিন ডলার (২০০ মিলিয়ন ডলারের কম) প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। তৈরি পোশাক খাতে মোট ১০৩ কোটি ডলার বা ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও ব্যাংকের উচ্চ সুদহার (১০.৫%-এর বেশি) এবং বাণিজ্যিক প্যানেল আমদানিতে সাড়ে ১৩ শতাংশ শুল্কের কথা বলে প্রতি কেজিতে ৩ ডলার হারে মূল্যায়নের মাধ্যমে শুল্কের ভার ২৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়াকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি জানান, বর্তমানে ৫০০ কারখানা নিজস্ব বিনিয়োগে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত। যদি সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে 'গ্রিন ফাইন্যান্স' বা রেয়াতি ঋণ পাওয়া যায়, তবে আরও ১,৩০০টি কারখানা যুক্ত হতে পারবে এবং আরও ৪০০টির বেশি কারখানার জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে পোশাক খাতের বিদ্যুতের মাত্র ৩ শতাংশ আসছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যা ১৪ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এইচঅ্যান্ডএম, ইনডিটেক্স, ওয়ালমার্ট ও গ্যাপের মতো বৈশ্বিক ক্রেতাদের সবুজ চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০৩৫ সালের মধ্যে কারখানায় অন্তত ৩৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়বে।

সেমিনারে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কান্ট্রি লিয়াজোঁ নুসরাত জাহান জানান, বিডার ২০২৪ সালের ‘হিটম্যাপে’ ১৯টির মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত শীর্ষে রয়েছে এবং চীনা বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী।

বিআরইবির প্রধান প্রকৌশলী স্বপন বণিক জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিআরইবির সব অফিসের ছাদ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সহসভাপতি জাহিদুল আলম শুল্ক জটিলতার কথা এবং বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক কারখানায় ২৪ ঘণ্টার বদলে মাত্র ৭-৮ ঘণ্টা গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়ার সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার বিভাগের প্রধান তনুল চক্রবর্তী জানান, বহুতল ভবনের কারণে ছাদ সীমিত থাকায় তাঁদের ২৯.২ মেগাওয়াট সোলার থাকা সত্ত্বেও চাহিদার মাত্র ১৫% মেটানো সম্ভব হচ্ছে, যেমন জিরানির ১.৫ মেগাওয়াট চাহিদার স্থানে মাত্র ২৭২ কিলোওয়াট সোলার বসানো গেছে।
//ডিবিটেক/বিডিএনটি/এমআইএস//