'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস'কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার

'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস'কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার
৪ জুন, ২০২৬ ১৩:৩৬  
৪ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৭  
চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালুর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সাথে আগামী তিন মাসের মধ্যে শিশুদের স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি। 
 
৪ জুন, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ন্যাশনাল বাংলা স্কুলে আয়োজিত ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
 
শিক্ষাকে আনন্দময় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে শিক্ষার্থীদের ড্রপ আউট বা স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার তাই সবার আগে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিশুরা যাতে হাসতে হাসতে, খেলতে খেলতে আনন্দময় পরিবেশে শিখতে পারে, সেজন্য খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক কারিকুলামে যুক্ত করাসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যে পরিকল্পনা, সে অনুযায়ী একটি স্কুলও খাবারবিহীন থাকবে না। একটি স্কুলও টেবিল ছাড়া থাকবে না। কোনও শিক্ষার্থী স্কুলড্রেস ছাড়া থাকবে না। তাদের জন্য আমরা সব ধরনের আরামদায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। সামনের দিকে তারা এগিয়ে যাবে। আমরা দেখতে চাই না, শিশুরা ব্যাগভর্তি বই নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। তারা হাসতে হাসতে খেলতে খেলতে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে অনুষ্ঠানটি করতে যাচ্ছি, আমার মনে হয় বিশ্বে একটি রেকর্ড। ৬৫ হাজারে ওপরে প্রতিষ্ঠানের এখানে প্রতিনিধিত্ব আছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসবে আগামী দিনের মেসি। এই ছোট থেকেই তাদের নিরাপদ এবং খেলাধুলার জন্য সৃষ্টি করছি। আমরা দেখেছি এশিয়ান গেমসে নারীরা জিতে এসেছে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা  উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আজকের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ক্ষুদে ফুটবলাররাই আগামী দিনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে।
 
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন তার বক্তব্যে সরকারের দূরদর্শী শিক্ষাদর্শনের কথা তুলে ধরে বলেন, শিশুরাই আগামী বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। আমরা ক্রীড়াখাত এমনভাবে গড়ে তুলবো যাতে খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, পেশা হতে পারে। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে চাই যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ ও রাষ্ট্রের যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে।" 
প্রসঙ্গত, এ বছরের ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে এ টুর্নামেন্ট শুরু হয়। দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের ১১ লক্ষ ১০ হাজার ৮১৪ জন খেলোয়াড় এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের ১১ লক্ষ ৩ হাজার ২৯১ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলা/থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা গত ২৩ মে শেষ হয়। আজ থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলায় দেশের ৮ টি বিভাগের বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন ৮ টি বালক ও ৮টি বালিকা মোট ১৬ টি দলের খেলা শুরু হবে। এ পর্যায়ের খেলার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব শুরু হলো।
/ডিবিটেক/এসআই/এমইউএম/