২০২৯ সালে ২জি বন্ধের ভাবনাসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান

ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে মানসম্মত নেটওয়ার্ক নিশ্চিতের আহ্বান

  • মানসম্মত ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে ডিজিটাল বিভাজন দূর করার তাগিদ দিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান।
  • ২০২৯ সালে ২জি বন্ধের পরিকল্পনা, ৫জি বিস্তার, টাওয়ারের ঘনত্ব বাড়ানো ও ডেটার মেয়াদের সচেতনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
  • সাধারণ মানুষের জন্য ইএমআই (EMI) সুবিধায় হ্যান্ডসেট সহজলভ্য করা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।

ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে মানসম্মত নেটওয়ার্ক নিশ্চিতের আহ্বান
১৯ আগষ্ট, ২০২৬ ১৫:৩৮  

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে টেলিযোগাযোগের সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানসম্মত ইন্টারনেট না থাকলে বঞ্চিত মানুষ আরও পিছিয়ে পড়বে এবং এতে বড় ধরনের ডিজিটাল বিভাজন তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।  

১৯ আগস্ট, বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট অফিসে আয়োজিত 'ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন' বিষয়ক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।  

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি চেয়ারম্যান তিন মাসে প্রায় ৫ হাজার সাইটে কাজ করায় রবির কারিগরি দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "প্রতিষ্ঠানটির এই অর্জন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক হিসেবেও আশ্বস্ত হওয়ার মতো একটি বিষয়।"

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমদিকে সংযোগ না থাকাই ডিজিটাল বিভাজন হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন শুধু ইন্টারনেট থাকাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসম্মত ইন্টারনেট। এই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিভাজন দূর করতে রবি মানসম্মত সেবার দিকে জোর দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। রবির ভয়েস ও ডেটা রাজস্বের সমন্বয়কে স্বাস্থ্যকর উল্লেখ করে এই সেবার সুফল কেবল ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।  

নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন ও গ্রাহক সচেতনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানোন্নয়নের পরিবর্তন মানুষ রাতারাতি বুঝতে পারবে না, তাই তাদের জানানো ও সচেতন করার কাজে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি অপারেটরদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ৫জি বিস্তারের জন্য টাওয়ারের সংখ্যা ও ঘনত্ব বাড়ানোর তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি রেডিয়েশন নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা দূর করার তাগিদ দেন তিনি।  

গণশুনানিতে ডেটার মেয়াদ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে বিটিআরসি প্রধান বলেন, "সব ডেটায় সীমাহীন মেয়াদ চালু করলে দাম বেড়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বহন করা কঠিন হবে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজেও অপারেটরদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।"  

দেশে ২জি সেবা বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৯ সালের দিকে ২জি সেবা বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়ন সহজ নয়, কারণ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। হ্যান্ডসেটের বিস্তার বাড়াতে সরকার বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করছে এবং ইএমআই (EMI) সুবিধা বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সহায়তা দিচ্ছে।  

আধুনিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, সম্পদ ব্যবহারের অপ্টিমাইজেশন ও চাহিদা পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করা প্রয়োজন। বিটিআরসি অপারেটরদের উৎসাহিত ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে উন্মুক্ত নীতি পর্যালোচনা করবে।  

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।  
//ডিবিটেক/এসআই/এমআইএস//