ডাটা প্যাকেজে এআই টোকেন যুক্তের আহ্বান

• ৭ কোটি ফিচার ফোন ব্যবহারকারীকে স্মার্টফোনে রূপান্তরের তাগিদ
• ৩–৫ হাজার টাকায় সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও ইএমআই সুবিধা
• ডাটা প্যাকেজে চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনাই টোকেন চালুর প্রস্তাব

ডাটা প্যাকেজে এআই টোকেন যুক্তের আহ্বান
১৯ আগষ্ট, ২০২৬ ১৪:২১  

ডিজিটাল সংযোগের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে শক্তিশালী নেটওয়ার্কের পাশাপাশি সাশ্রয়ী ডিভাইস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল সহজলভ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট অফিসে আয়োজিত ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং মোবাইল অপারেটরদের একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় একযোগে কাজ করতে হবে। দেশের মোট ভৌগোলিক আয়তনের মাত্র ৪ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও অর্থনীতি ও জনসংখ্যার কারণে ঢাকায় প্রায় ৫ হাজার সাইট, স্পেকট্রাম ও ব্যাকহল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল। ডেটা কানেক্টিভিটি ছাড়া টেলিকম শিল্পের সুফল পাওয়া অসম্ভব এবং এ ক্ষেত্রে ডেটা খাতের নেতৃত্ব হিসেবে রবির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ডিভাইস পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মোট ১৪ কোটি সাবস্ক্রাইবারের মধ্যে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৭ কোটি মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। এই অচলাবস্থা কাটাতে সরকার মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানির কর ২৬–৩৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য অথবা ২–৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ফলে স্থানীয় উৎপাদকরা ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকদের জন্য ৫০–৬০ ডলার মূল্যের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন তৈরির সম্ভাবনা দেখিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় স্মার্টফোন কেনায় কিস্তি বা ইএমআই (EMI) সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এআই অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী আট শিক্ষার্থীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ইউটিউব ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে স্বশিক্ষিত হয়ে এআই স্টার্টআপ গড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীনের মতো বাংলাদেশেও সাধারণ ডাটা বান্ডেলের পরিবর্তে চ্যাটজিপিটি, ক্লড বা জেমিনাই-এর মতো প্ল্যাটফর্মের এআই টোকেন যুক্ত করে প্যাকেজ চালুর জন্য তিনি অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানান। সঠিক ডিভাইস, উন্নত নেটওয়ার্ক ও এআই টুলের সমন্বয় ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

//ডিবিটেক/এফএসএ/এমআইএস//