ছবি তৈরির সেরা ৭ এআই টুলস
মানুষের কল্পনাশক্তির কোনো সীমানা নেই। আর সেই সীমাহীন কল্পনাকে এখন চোখের সামনে বাস্তব রূপ দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। মাত্র কয়েক বছর আগেও যা কেবল কল্পবিজ্ঞান বলে মনে হতো, তা আজ হাতের মুঠোয়। কয়েকটি শব্দ লিখে দিলেই চোখের পলকে তৈরি হয়ে যাচ্ছে চমৎকার সব ছবি। প্রযুক্তির এই জাদুকরি উৎকর্ষ ছবি আঁকার ধারণাকেই পাল্টে দিয়েছে। গ্রাফিকস ডিজাইনার থেকে শুরু করে সাধারণ প্রযুক্তিপ্রেমী- সবার কাছেই এখন দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এআই ইমেজ জেনারেটর টুলগুলো।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ও কার্যকরী এমন সাতটি মাধ্যম সম্পর্কে, যেগুলো আপনার কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
মিডজার্নি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ছবি তৈরির কথা উঠলেই সবার আগে চলে আসে মিডজার্নি টুলের নাম। বাস্তবসম্মত এবং শৈল্পিক ছবি তৈরির ক্ষেত্রে এর জুড়ি মেলা ভার। আপনি যেমনটা চাইবেন, ঠিক তেমন আলো-ছায়া ও রঙের মিশেল ঘটিয়ে এটি নিখুঁত ছবি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিকৃতি বা পোর্ট্রেট এবং কাল্পনিক দৃশ্য তৈরিতে মিডজার্নি অভাবনীয় দক্ষতা দেখিয়েছে। এটি ব্যবহার করতে হয় ডিসকর্ড অ্যাপের মাধ্যমে। নির্দিষ্ট নির্দেশ বা প্রম্পট লিখে দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চারটি ভিন্ন রূপের ছবি হাজির করে এই মাধ্যমটি। তবে এটি পুরোপুরি বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই, নির্দিষ্ট চাঁদা দিয়ে এর সেবা নিতে হয়।
ডাল-ই ৩
ওপেনএআই তৈরি করেছে দারুণ এক ছবি তৈরির মাধ্যম, যার নাম ডাল-ই ৩। চ্যাটজিপিটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এই টুল ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। ব্যবহারকারীকে খুব জটিল কোনো কারিগরি নির্দেশ লিখতে হয় না। সাধারণ ভাষায় নিজের ভাবনার কথা লিখে দিলেই চ্যাটজিপিটি তা গুছিয়ে ডাল-ই ৩-কে দেয়, আর নিমিষেই তৈরি হয় কাঙ্ক্ষিত ছবি। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি নির্দেশনার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে। মজার ছলে আঁকা ছবি থেকে শুরু করে একদম বাস্তবের মতো দেখতে ছবি- সব ধরনের কাজেই এটি বেশ পারদর্শী।
স্ট্যাবল ডিফিউশন
যাঁরা ছবি তৈরির ক্ষেত্রে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ চান, তাঁদের জন্য স্ট্যাবল ডিফিউশন এক অনন্য পছন্দ। এটি একটি ওপেন সোর্স বা উন্মুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যম, যার অর্থ হলো এটি বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং নিজের মতো করে পরিবর্তনও করা যায়। শক্তিশালী কম্পিউটারে এটি নামিয়ে নিয়ে অফলাইনেও ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় এতে ছবি সম্পাদনার সুযোগ অনেক বেশি। তবে এটি ভালোভাবে ব্যবহার করতে হলে নির্দেশ লেখার ক্ষেত্রে কিছুটা কারিগরি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
অ্যাডোবি ফায়ারফ্লাই
ডিজাইন দুনিয়ার পরিচিত নাম অ্যাডোবি নিয়ে এসেছে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফায়ারফ্লাই। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো স্বত্বাধিকার বা কপিরাইট নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা। অ্যাডোবি তাদের নিজস্ব স্টক ছবি দিয়ে এই প্রযুক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, ফলে এর তৈরি করা ছবি নিয়ে আইনি কোনো জটিলতায় পড়ার ভয় থাকে না। ফায়ারফ্লাই খুব সহজেই ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটরের মতো সফটওয়্যারের সঙ্গে মিলে কাজ করতে পারে। তাই পেশাদার ডিজাইনারদের কাছে খুব দ্রুতই এটি আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।
লিওনার্দো এআই
গেমিং দুনিয়ার জন্য ছবি বা চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে লিওনার্দো এআই দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খুব কম সময়ে এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে থ্রিডি মডেল বা কাল্পনিক পরিবেশ তৈরি করতে এটি দারুণ কার্যকর। এর ব্যবহারকারী ইন্টারফেস বা নকশা বেশ পরিপাটি, ফলে নতুনরাও খুব সহজে এটি ব্যবহার করতে পারেন। বিনা মূল্যে প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক ছবি তৈরির সুযোগ থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছেও এটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বিং ইমেজ ক্রিয়েটর
মাইক্রোসফটের তৈরি বিং ইমেজ ক্রিয়েটর মূলত ডাল-ই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই কাজ করে। তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকলেই এটি বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। কোপাইলট সুবিধার মাধ্যমে যেকোনো স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে খুব সহজেই এতে প্রবেশ করা যায়। সাধারণ লেখা থেকে দ্রুত এবং মানসম্মত ছবি পেতে এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজের বড় সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যানভা ম্যাজিক মিডিয়া
নকশা বা ডিজাইন করার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্যানভার নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো ম্যাজিক মিডিয়া। যাঁরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য পোস্টার বা ছবি তৈরি করেন, তাঁদের জন্য এটি এক জাদুকরি হাতিয়ার। ক্যানভার ভেতরেই সরাসরি নির্দেশ লিখে ছবি তৈরি করে তা সঙ্গে সঙ্গেই মূল ডিজাইনে যুক্ত করা যায়। আলাদা কোনো মাধ্যমে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না বলে এটি ব্যবহারকারীর অনেক সময় বাঁচায়। এর সহজ ব্যবহারপদ্ধতির কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ীরাও এটি নিয়মিত ব্যবহার করছেন।
প্রযুক্তির এই অভাবনীয় বিকাশের ফলে এখন আর ছবি আঁকার জন্য রং-তুলির প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন কেবল সুন্দর একটি ভাবনার। আর সেই ভাবনাকে প্রকাশ করার মতো কয়েকটি জুতসই শব্দের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই মাধ্যমগুলো প্রতিনিয়ত আরও উন্নত হচ্ছে। আগামী দিনে হয়তো এগুলো আমাদের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যাবে। তবে আপাতত এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে যে কেউই হয়ে উঠতে পারেন একজন ডিজিটাল শিল্পী।
ডিবিটেক/বিএমটি





