স্মার্টফোনের ক্যামেরায় এআই আসলে কীভাবে কাজ করে?

স্মার্টফোনের ক্যামেরায় এআই আসলে কীভাবে কাজ করে?
৬ আগষ্ট, ২০২৬ ১৬:৫৪  

একসময় মুঠোফোনে ছবি তোলার বিষয়টি কেবল মেগাপিক্সেলের সংখ্যার ওপর নির্ভর করত। যত বেশি মেগাপিক্সেল, ছবি তত ভালো হবে- এমন ধারণাই ছিল সবার মনে। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই ধারণায় এসেছে বিরাট পরিবর্তন। এখন ক্যামেরার লেন্সে মেগাপিক্সেলের চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। পকেটে থাকা ছোট্ট মুঠোফোনটি দিয়ে এখন যেমন অন্ধকার রাতেও পরিষ্কার ছবি তোলা যায়, তেমনি চোখের পলকে পটভূমি ঝাপসা করে পেশাদার ক্যামেরার অনুকরণে প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়। প্রযুক্তির এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পেছনে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে বিশেষ কিছু বুদ্ধিমান সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদম।

ছবির দৃশ্য চেনার মুনিয়ানা
মুঠোফোনের ক্যামেরা যখন কোনো দৃশ্যের দিকে তাক করা হয়, তখন ভেতরে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চোখের পলকে বুঝে নেয় সামনে কী রয়েছে। এটি কি কোনো সবুজ মাঠ, সূর্যোদয়ের সোনালী বেলা, খাবার টেবিল নাকি কোনো মানুষের মুখ- তা সেকেন্ডের ভগ্নাংশে শনাক্ত করতে পারে এই প্রযুক্তি। দৃশ্য বা পরিপার্শ্ব বুঝে ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রং, আলো ও বৈপরীত্য বদলে নেয়। ফলে ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনো সেটিংস নিয়ে ভাবতে হয় না, ক্যামেরা নিজেই বুদ্ধিমত্তার জোরে নিখুঁত সেটিংসে ছবিটি ধারণ করে ফেলে।

আলোর খেলায় নিখুঁত ভারসাম্য
কম আলোতে বা রাতের বেলা ছবি তোলার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী ক্যামেরাগুলো একসময় মারাত্মক হিমশিম খেত। কিন্তু বর্তমানের এআই চালিত ক্যামেরাগুলো এই সংকটের দারুণ এক সমাধান নিয়ে এসেছে। শাটার খোলার পর ক্যামেরাটি একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ভিন্ন আলোর প্রকাশ বা এক্সপোজারের ছবি তোলে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ছবিগুলোর ভালো অংশগুলো জোড়া লাগিয়ে একটি স্পষ্ট ও উজ্জ্বল ছবি তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় ছবির অন্ধকারের গোলমেলে অংশগুলো থেকে শব্দ বা গ্রেইন দূর করে রঙকে স্বাভাবিক রূপ দিতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে এআই।

প্রতিকৃতির সৌন্দর্য ও গভীরতা
স্মার্টফোনে পোর্ট্রেট মোড বা মানুষকেন্দ্রিক ছবি তোলার প্রচলন এখন ভীষণ জনপ্রিয়। এর পেছনের মূল জাদুকর হলো এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। লেন্স যখন কোনো মানুষের ছবি তোলে, তখন এআই মুহূর্তের মধ্যে মানবদেহ এবং পেছনের পটভূমির মধ্যে তফাত বুঝতে পারে। মানুষটিকে স্পষ্ট রেখে পেছনের অংশটুকু চমৎকারভাবে ঝাপসা বা বোকেহ ইফেক্ট তৈরি করে দেয়। এমনকি চুলের শেষ প্রান্ত বা পোশাকের কিনারা নিখুঁতভাবে আলাদা করার কাজটিও এআই অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করে, যা দেখতে একদম পেশাদার ক্যামেরার মতো মনে হয়।

ত্রুটি সংশোধন ও জাদুকরী পরিবর্তন
ছবি তোলার পর অনেক সময় দেখা যায় ফ্রেমে কোনো অনভিপ্রেত বস্তু বা ব্যক্তি চলে এসেছে অথবা ছবির কোনো অংশ সামান্য কেঁপে গেছে। আধুনিক স্মার্টফোনের এআই ফিচারগুলোর সাহায্যে খুব সহজেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব। কোনো অপ্রয়োজনীয় বস্তু মুছে ফেলতে চাইলে এআই নিজ দায়িত্বে সেই ফাঁকা জায়গাটি আশেপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মিলিয়ে পূরণ করে দেয়। এছাড়া ঝাপসা হয়ে যাওয়া ছবিকে শার্প বা স্পষ্ট করে তোলার কাজেও এই প্রযুক্তি দারুণ মুন্সিয়ানা দেখায়। 

সব মিলিয়ে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হাতের মুঠোয় থাকা ক্যামেরাটি এখন কেবল ছবি তোলে না, বরং ছবিকে নিখুঁত ও জীবন্ত করে তুলতে বিশ্বস্ত সহকারীর ভূমিকা পালন করে।

ডিবিটেক/বিএমটি