শিশুদের গেমিং অভ্যাসের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় কী?
বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের বড় একটা অংশ তাদের অবসর সময়ের একটা বড় অংশ কাটিয়ে দেয় কম্পিউটারের পর্দা কিংবা মুঠোফোনের আলোয় চোখ রেখে। রঙিন দুনিয়ার নানা ধরনের ভিডিও গেমের প্রতি এই অবুঝ মনের দুর্নিবার আকর্ষণ হরহামেশাই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বাবা-মায়ের জন্য। সন্তান কি কেবল শখের বশে বা সৃজনশীল কোনো উদ্দেশ্যে গেম খেলছে, নাকি ধীরে ধীরে মারাত্মক কোনো আসক্তির জালে জড়িয়ে পড়ছে- তা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই অভিভাবকদের। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিনোদনের মাধ্যম বদলে গেলেও এর সঠিক পরিচালনা নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করা আজ অত্যন্ত জরুরি এক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্যাশন আর আসক্তির সূক্ষ্ম ফারাক
সন্তানের গেমিংপ্রীতিকে সঠিক দৃষ্টিতে দেখতে হলে সবার আগে শখ বা প্যাশন এবং আসক্তির মধ্যকার অমিলগুলো বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় ভিডিও গেমের মাধ্যমে শিশুরা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, কৌশলগত চিন্তা কিংবা হাত ও চোখের সমন্বয় বাড়াতে শেখে, যা একধরনের ইতিবাচক দিক হিসেবে গণ্য হতে পারে।
কিন্তু যখন এই খেলাধুলা পড়ালেখা, সামাজিক মেলামেশা এবং দৈনন্দিন স্বাভাবিক ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসকে ব্যাহত করতে শুরু করে, তখনই তা আসক্তির রূপ নেয়। সন্তান খেলার সময়সীমা নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে কি না এবং খেলা বন্ধ করতে বললে অতিরিক্ত রাগ বা হতাশা প্রকাশ করছে কি না, তা গভীরভাবে লক্ষ করা উচিত।
অভিভাবকদের করণীয় ও সুনির্দিষ্ট সীমারেখা
ডিজিটাল এই আসক্তি দূর করতে গিয়ে হঠাৎ করেই সন্তানকে কঠোর শাসন করা বা জোর করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। এর পরিবর্তে অভিভাবকদের উচিত সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা রুটিন তৈরি করে দেওয়া। পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার পর প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানোর সুযোগ দিলে শিশুরা নিয়ম মেনে চলতে শেখে।
তবে এই নিয়ম পালনের ক্ষেত্রে বাবা-মাকেও কিছু ছাড় দিতে হবে এবং সন্তানদের সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানোর মানসিকতা থাকতে হবে, যাতে তারা একাকিত্ব থেকে দূরে থাকে।
বিকল্প বিনোদন ও বাস্তব জীবনের সংযোগ
ভার্চুয়াল জগতের আকর্ষণ থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হলে বাস্তব জীবনের নানা উপাদেয় ও আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ডে তাদের যুক্ত করতে হবে। ঘরের বাইরে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, বই পড়া কিংবা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে উৎসাহিত করলে তাদের মন আপনাআপনিই স্ক্রিন থেকে দূরে সরে আসে।
এছাড়া পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে সময় কাটানো, ঘুরতে যাওয়া বা নানা ধরনের সামাজিক উৎসবে অংশ নেওয়া শিশুদের মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বর্জন না করে বরং এর পরিমিত ও সঠিক ব্যবহার শেখাতে পারলে শিশুরা সুস্থ ও সুন্দর একটি শৈশব উপহার পেতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি





