আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ টার্মিনাল পরিচালনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় আরএসজিটি

প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর উন্নয়নে সৌদির বিনিয়োগ আগ্রহ

  • প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর পরিচালনায় সৌদির বিনিয়োগ আগ্রহ
  • আধুনিক লজিস্টিকস ও কোল্ড চেইন খাতে সহযোগিতা জোরদার
  • বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তি ব্যবহারে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সৌদি প্রতিষ্ঠানের

প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর উন্নয়নে সৌদির বিনিয়োগ আগ্রহ
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৩  

আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ টার্মিনাল পরিচালনা এবং ডিজিটাল লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, প্রযুক্তিনির্ভর বন্দর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাবে পরিণত করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

১৫ জুলাই, বুধবার সকালে ঢাকার বিনিয়োগ ভবনে সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিক চৌধুরীর বৈঠকে এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে সৌদি উপমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে আরএসজিটির কার্যক্রম ইতোমধ্যে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ৯৮ শতাংশেরও বেশি কর্মী বাংলাদেশি। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে টার্মিনাল পরিচালনায় দক্ষতা উন্নয়ন, স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বন্দর আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে আরএসজিটি।

তিনি বলেন, সৌদি আরব বর্তমানে নিজেকে বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশটির শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশকেও সেই সম্ভাবনাময় অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সৌদি উপমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আলোচনায় উভয় পক্ষ কোল্ড স্টোরেজ, স্মার্ট সাপ্লাই চেইন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, পরিবহন অবকাঠামো এবং আর্থিক সেবা খাতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করে। একই সঙ্গে পারস্পরিকভাবে লাভজনক প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, আলোচনায় এমন কয়েকটি খাত উঠে এসেছে, যেখানে সৌদি পক্ষের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার একে অপরের সঙ্গে মিলেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক, যা কোল্ড স্টোরেজ থেকে বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত, সেখানে সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আর্থিক সেবা খাতেও বিদেশি বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে তারা বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা পেয়ে ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বৈঠকে পিপিপি কর্তৃপক্ষ, বিডা ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/বিএনও /এমএসই//