হাইব্রিড হুমকি মোকাবিলায় বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
পিজিআরকে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাইবার হামলা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের মতো আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জোর দেন।
সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকার সেনানিবাসে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।
সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড নিরাপত্তা হুমকি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং সর্বক্ষণিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে পিজিআর ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।
বক্তব্যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের ঘটনায় পিজিআরের যে পাঁচজন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদেরসহ দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
একই সাথে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, বঙ্গভবনের সচিবগণ, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পিজিআরের কমান্ডার এবং সর্বস্তরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/এমএআর/ইকে//





