যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ; অ্যাপ্রোচ সড়ক নিয়ে অভিযোগও পরিদর্শন

আরিচা-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দ্রুত সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর

  • নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে জোর।
  • ঈদসহ ব্যস্ত সময়ে নির্বিঘ্ন পারাপারে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ।
  • অ্যাপ্রোচ সড়কে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ সরেজমিনে পরিদর্শন।

আরিচা-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দ্রুত সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর
২ জুলাই, ২০২৬ ০০:০০  

যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আরিচা-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দ্রুত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। একই সঙ্গে ঘাটের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বুধবার আরিচা-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি ফেরি চলাচল, যানবাহন ও যাত্রী ব্যবস্থাপনা, ঘাটের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে আরিচা-দৌলতদিয়া নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ নৌপথে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব এবং স্বাভাবিক সময়েও যাত্রী ও যানবাহনের নির্বিঘ্ন পারাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের নির্দেশ দেন।

এ সময় ফেরির আধুনিকায়ন কার্যক্রম, ঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগও পর্যালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আরিচা ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি অস্থায়ী অ্যাপ্রোচ সড়ক। এর প্রকৌশল নকশা অনুযায়ী বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। সড়কটি প্রতি দুই থেকে তিন মাস পরপর পরিবর্তন করা হয় এবং ১৯৬৩ সাল থেকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত যেকোনো অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়। নির্মাণকাজে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপদ নৌ-চলাচল এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আধুনিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাত্রীসেবা আরও উন্নত, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

//ডিবিটেক/বিএন/এমআই//