শিক্ষার দুর্বলতা দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার দুর্বলতা দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

শিক্ষার দুর্বলতা দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
২৫ জুন, ২০২৬ ১১:৫৩  
২৫ জুন, ২০২৬ ১৩:২১  

শিক্ষায় কোনো ধরনের চালাকি চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করতে ভার্চুয়াল বৈঠকের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে মতবিনিময় করা হচ্ছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে গড়ে হারিয়ে যাওয়া দুই বছর সময় ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২৫ জুন, বুধবার বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষককে একটি করে ট্যাবলেট পিসি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার সব দুর্বলতা দূর করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আনন্দময় করা হবে। শিক্ষাকে আর কোনোভাবেই জিম্মি করা যাবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তঃবোর্ড বদলির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের সিবিএ ও ক্লার্কদের দৌরাত্ম্য কমানো হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক স্কুলে ইন-হাউস কোচিং চালুর আহ্বান জানান তিনি এবং এ জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার মামলা পর্যালোচনা করা হবে। আগামী ২ জুলাই এসব মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, “যতদিন দায়িত্বে থাকব, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাব। জনগণ যতদিন চাইবে ততদিন দায়িত্ব পালন করব।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনার সময়ের মতো পাশের হার কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করে শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রকৃত মানোন্নয়ন করা হবে। শিক্ষকদের সময়মতো বেতন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য থোক বরাদ্দ থেকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন শিক্ষক নিয়োগে বাজেট বরাদ্দ না থাকায় ৫০১ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষকদের বেতন ইএফটির মাধ্যমে দিতে বরাদ্দ আট গুণ বাড়ানো হলেও তা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ হবে।

মেধা মূল্যায়নে বোর্ড বৈষম্য দূর করতে ৯টি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সারফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করতে হবে।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ২০০১-২০০৬ সময়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দেশে নকলমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান মেধাবীরাই দেশের নেতৃত্ব দিক।

বরিশাল সিটি মেয়র অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে অতীতে নকলের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি লজ্জিত ছিলেন। নকলমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেসবুকে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
//ডিবিটেক/এসএইচ/আইএইচ//