ট্রিলিয়নিয়ারের খেতাব হারালেন ইলন মাস্ক

ট্রিলিয়নিয়ারের খেতাব হারালেন ইলন মাস্ক
২৫ জুন, ২০২৬ ১৪:২৮  
২৪ জুন, ২০২৬ ১৯:২২  

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের নজিরবিহীন ধসে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের সম্পদ হারিয়েছেন ইলন মাস্ক। এর ফলে ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্জন করা ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের মালিক) খেতাবটি তিনি মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই হারালেন।

চলতি জুনের শুরুতে তার রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স-এর রেকর্ড সৃষ্টিকারী আইপিও বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর মাস্ক এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। তবে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পড়ে যায়। পাশাপাশি মঙ্গলবার বিশ্ববাজারের প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের বিক্রির চাপের মুখে পড়ে তার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা।

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫৭.১ বিলিয়ন ডলারে। অথচ গত সপ্তাহে ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী তার সম্পদ সর্বোচ্চ ১.৪৫ ট্রিলিয়ন (১ লক্ষ ৪৫ হাজার কোটি) ডলারে পৌঁছেছিল।

সম্পদ হ্রাসের ঐতিহাসিক রেকর্ড: গত এক সপ্তাহে ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ যতটা কমেছে, তা বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ল্যারি পেজের মোট সম্পদের চেয়েও বেশি। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের বর্তমান মোট সম্পদ ২৯৭ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম।

শেয়ারবাজারে ধসের কারণ
চলতি সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিটের সূচক টানা দুই দিন বড় পতনের মুখে পড়ায় মাস্কের সম্পদে এই বড় ধাক্কা লাগে। মঙ্গলবার টেসলার শেয়ারের দাম ৫.৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি প্রায় ৮৯ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারায়। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান কোম্পানি এনভিডিয়ার শেয়ারের দর কমেছে ৪.১ শতাংশ।

প্রযুক্তি খাতের এই ধস আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ট্রিলিয়ন ডলারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘মাইক্রন’-এর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের আগে তাদের শেয়ারের দাম এক দিনেই ১৩.২ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের কোম্পানিগুলোর মূল্যায়ন মাত্রাতিরিক্ত বা বুদ্বুদ (বাবল) হয়ে উঠেছে কি না—বাজার সংশ্লিষ্টদের এই উদ্বেগই ধসের মূল কারণ। বিখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও সতর্ক করেছে যে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যদি এআই খাতে খরচ কমায়, তবে এই খাতের শেয়ারগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়বে।

সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখার ঝুঁকি
ডাউগেট ওয়েলথ-এর ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার বেন ম্যাককিওন বলেন, ইলন মাস্কের সম্পদের এই চরম ওঠানামার মূল কারণ হলো তার প্রায় সম্পূর্ণ সম্পদ মাত্র দুটি কোম্পানি—টেসলা এবং স্পেসএক্স-এর ওপর কেন্দ্রীভূত।

তিনি একটি প্রচলিত ব্যবসায়িক প্রবাদ উল্লেখ করে বলেন: “সম্পদ গড়ে তোলার জন্য মনোযোগ এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত করতে হয়, আর সেই সম্পদ টিকিয়ে রাখার জন্য তা বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দিতে হয়। মাস্ক হলেন এর সবচেয়ে চরম উদাহরণ। তার প্রায় সম্পূর্ণ নিট সম্পদ টেসলা এবং স্পেসএক্সে নিহিত, যা অত্যন্ত অস্থির বা ওঠানামা প্রবণ।”

গত ১২ জুন স্পেসএক্সের ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক আইপিও চালুর পর প্রথম তিন দিনেই এর শেয়ারের দাম ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং কোম্পানির মূল্য ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। কিন্তু পরবর্তী তিন দিনে তা বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৯২৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

এটিই মাস্কের জীবনে সম্পদ হারানোর প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে ২০২২ সালেও টেসলার শেয়ারের দরপতনের কারণে তিনি প্রায় ১৬৫ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি সম্পদ হারানোর রেকর্ড গড়েছিলেন। এবারের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পতন সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেল।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ