গ্রিড সম্প্রসারণ ও সমন্বয়হীন নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত, পুরোনো সিস্টেমকে হাইব্রিড করার সুপারিশ

পরিকল্পনার অভাবে ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম অকেজো, বলছে সিপিডি

দেশে স্থাপিত ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের প্রায় অর্ধেক বা ৩০ লাখ বর্তমানে অকার্যকর। সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে, পরিকল্পনাহীন গ্রিড সম্প্রসারণ ও দুর্বল সমন্বয়ের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুরোনো সিস্টেমগুলোকে হাইব্রিড বা গ্রিড-টাইড মডেলে রূপান্তরের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

পরিকল্পনার অভাবে ৩০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম অকেজো, বলছে সিপিডি
২৩ জুন, ২০২৬ ১৩:০৩  

২৩ জুন, মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বাজেট-পরবর্তী সেমিনারে প্রকাশিত ‘SHS Survey 2025’ গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে স্থাপিত ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেমের প্রায় অর্ধেক বা ৩০ লাখ বর্তমানে সম্পূর্ণ অকার্যকর।

সেমিনারে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহকারী আতিকুজ্জামান সাজিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের Chief Whip নুরুল ইসলাম মনি।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৩ সালে Infrastructure Development Company Limited (IDCOL)-এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় অফ-গ্রিড বিদ্যুতায়ন কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্বব্যাংক, ADB এবং JICA-এর অর্থায়নে প্রায় ৩০টি সহযোগী এনজিও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।

২০১৩ সালে রেকর্ড ৮ লাখ ৫৩ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়। তবে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া দ্রুত জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণের ফলে সোলার সিস্টেমগুলোর চাহিদা কমে যায়। ২০১৮ সালে বার্ষিক নতুন স্থাপনা ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমে মাত্র ৩ হাজার ৪৫৫টিতে নেমে আসে।

গবেষণায় বলা হয়, অধিকাংশ সিস্টেমের সক্ষমতা সীমিত ছিল। এগুলো দিয়ে কেবল আলো জ্বালানো বা মোবাইল চার্জ দেওয়া সম্ভব হতো। ফলে গ্রাহকেরা জাতীয় গ্রিডের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, মাঠপর্যায়ে সোলার ঋণ বিতরণ চললেও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্রিড সম্প্রসারণ করা হয়। এতে অংশীদার এনজিও এবং অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে নষ্ট ব্যাটারি ও প্যানেল নতুন পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

বর্তমানে স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের প্রায় ৪৭ শতাংশ অকেজো। এগুলোকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য কোনো হাইব্রিড বা রূপান্তরমুখী নীতিমালা তৈরি করা হয়নি।

সিপিডি বলছে, পুরোনো ‘Legacy Solar Home System’ বাদ না দিয়ে সেগুলোকে আধুনিকায়ন করা উচিত। অতীতে এসব সিস্টেমের মাধ্যমে দুই কোটির বেশি মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল।

সংস্থাটি সোলার ট্রানজিশন সফল করতে কয়েকটি সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোলার প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার, আবাসিক Net Metering ব্যবস্থা ডিজিটাল করা, ব্যাংক ঋণের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি এবং Green Refinancing সহজ করা।

এছাড়া সেচ পাম্পকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি, ডিজেল ভর্তুকি ধাপে ধাপে কমানো এবং SREDA-এর নেতৃত্বে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংস্থাটি পুরোনো ও অকেজো সোলার হোম সিস্টেমকে Hybrid বা Grid-tied System-এ রূপান্তরেরও আহ্বান জানিয়েছে।

//ডিবিটেক/ডিপিও/ডিএইচই//