ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি ও কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
বেবিচক প্রকৌশলী শরিফুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি লাভ এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেওয়া এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে গত ১৬ জুন বেবিচক চেয়ারম্যানকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এবং মন্ত্রণালয়কে তা জানাতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১১ জুন একটি জাতীয় পত্রিকায় ‘বাবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে ২৫ বছর ধরে চাকরি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে শরিফুল ইসলামের জালিয়াতি ও নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে একটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে বেবিচকে সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরি পান শরিফুল ইসলাম। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার বাবার কোনো নাম নেই।
চাকরি পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে কার্যালয়ের ফটক ও বিশ্রামাগার নির্মাণে আর্থিক অনিয়ম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কাওলায় বেবিচক কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণের নামে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে। এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিগত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রহস্যজনকভাবে তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়ে বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছেন এবং যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দুদক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। তাই এবারের তদন্তে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা, এমনকি চাকরিচ্যুতির মতো বড় সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
//ডিবিটেক/ এসএ/ইকে//





