ফিটবিট এয়ার: ডিসপ্লেবিহীন ট্র্যাকারের দুনিয়ায় গুগলের নতুন চমক
সম্প্রতি গুগল তাদের নতুন স্ক্রিনবিহীন (ডিসপ্লেলেস) পরিধানযোগ্য ডিভাইস ‘ফিটবিট এয়ার’ বাজারে এনেছে। গ্যাজেট বিশেষজ্ঞ চেরিলিন লো ডিভাইসটিকে ১০-এর মধ্যে ৮.৮ রেটিং দিয়েছেন। এটিকে মূলত এই ক্যাটাগরির শীর্ষ ব্র্যান্ড ‘হুপ’-এর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলুন দেখে নেয়া যাক, কী আছে এই গ্যাজেটটিতে।
হার্ডওয়্যার ও ডিজাইন
ফিটবিট এয়ার মূলত গুগলের ‘ইন্সপায়ার ৩’ ট্র্যাকারের একটি ডিসপ্লেবিহীন ও পাতলা সংস্করণ। এটি ওজনে অত্যন্ত হালকা (মাত্র ৫.২ গ্রাম) এবং ছোট ক্যাপসুলের মতো আকৃতির।
ডিজাইন: এর ওপরে গুগলের লোগো এবং নিচে নিখুঁত সেন্সর প্যানেল রয়েছে। এতে কোনো স্ক্রিন নেই, তাই সব ধরনের তথ্য স্মার্টফোনের মাধ্যমে দেখতে হয়।
কন্ট্রোল: ডিভাইসে মাত্র দুটি জোরে ট্যাপ করে অ্যালার্ম বন্ধ করা বা ব্যাটারির স্থিতি (এলইডি লাইটের মাধ্যমে) দেখা যায়। এতে একটি ভাইব্রেশন মোটর আছে, যা ‘স্মার্ট অ্যালার্ম’ ফিচারের সাহায্যে আপনার ঘুমের হালকা স্তরে মৃদু কম্পনের মাধ্যমে জাগিয়ে তোলে।
ব্যান্ড বা স্ট্র্যাপ: গুগল এর জন্য বিভিন্ন ধরনের আরামদায়ক ব্যান্ড তৈরি করেছে (যেমন: বাস্কেটবল তারকা স্টিফ কারি এডিশন)। এগুলো খুব সহজেই অদলবদল করা যায়।
ব্যাটারি লাইফ ও চার্জিং
স্থায়িত্ব: গুগলের দাবি অনুযায়ী এটি এক চার্জে প্রায় ৭ দিন চলে। তবে প্রতিযোগিতার বাজারে এটি ‘হুপ’-এর ১৪ দিনের ব্যাকআপের তুলনায় অর্ধেক।
চার্জিং গতি: এর চার্জিং গতি অত্যন্ত চমৎকার। মাত্র ২ মিনিটে এটি বিপদসীমা (২০%-এর নিচে) থেকে চার্জ হয়ে যায় এবং মাত্র ৫ মিনিটের চার্জে ব্যাটারি ৩৬% থেকে ৫৮%-এ পৌঁছায়।
গুগল হেলথ অ্যাপ ও জেমিনি-চালিত এআই কোচ
ফিটবিট এয়ারের মূল চালিকাশক্তি হলো এর নতুন গুগল হেলথ অ্যাপ (যা পুরনো গুগল ফিট ও ফিটবিট অ্যাপের জায়গা নিচ্ছে) এবং গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনি’ দ্বারা পরিচালিত একটি অল-ইন-ওয়ান ‘এআই কোচ’।
সহজ ইন্টারফেস: অ্যাপের হোম পেজে একটি চমৎকার সোয়াইপযোগ্য ড্যাশবোর্ড রয়েছে, যেখানে স্টেপ কাউন্ট, হার্ট রেট, ক্যালোরি এবং ঘুমের ডেটা খুব সুন্দরভাবে দেখা যায়।
সহজ ট্র্যাকিং: সাধারণ অ্যাপের মতো জটিল মেনুতে না গিয়ে এআই কোচকে সরাসরি মেসেজ বা ভয়েস কমান্ড দিয়ে খাবার বা ব্যায়ামের ডেটা লগ করা যায়। যেমন: আপনি কোনো খাবারের পুষ্টিগুণ বা নিউট্রিশন লেবেলের ছবি তুলে কোচকে বললেই সে সেটি আপনার ডায়েটে যুক্ত করে দেবে। এমনকি ব্যায়ামের ভঙ্গির ছবি তুলে দিলে সেটি সঠিক হচ্ছে কি না, তা-ও এআই বিশ্লেষণ করতে পারে।
ত্রুটি বা গ্লিচ: এআই কোচটি এখনো শতভাগ নিখুঁত নয়। কখনো কখনো ব্যবহারকারী সাধারণ ব্যায়াম করলেও সেটি ‘হাঁটাহাঁটি’ হিসেবে ভুলভাবে রেকর্ড করে। স্পীচ-টু-টেক্সট (কণ্ঠস্বর থেকে লেখা) ইঞ্জিনটি মাঝে মাঝে আটকে যায়। এছাড়া মাঝেমধ্যে কোনো ক্ষতিকর কথা না বললেও এটি ভুলবশত ‘নিরাপত্তা নীতি লঙ্ঘন’-এর মেসেজ দেখায়।
চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা
মেডিকেল অ্যাডভাইস বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে গুগল এই এআই-কে তৈরি করেনি। তবে এটি যেকোনো স্বাস্থ্যগত সিন্ড্রোম (যেমন: গিলিয়ান-বারে সিন্ড্রোম) সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারে। ব্যবহারকারীর খাদ্যাভ্যাস বা বডি ইমেজ (শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতা) সংক্রান্ত বিষয়ে যেন এআই কোনো ক্ষতিকর পরামর্শ না দেয়, সেজন্য গুগল চিকিৎসকদের নিয়ে এটিকে কঠোরভাবে ‘স্ট্রেস-টেস্ট’ করেছে।
এক নজরে ভালো ও মন্দ দিক:
ইতিবাচক দিক: অত্যন্ত হালকা ও বহুমুখী হার্ডওয়্যার, দারুণ দ্রুতগতির চার্জিং ব্যবস্থা, এবং সহজ ও তথ্যবহুল নতুন গুগল হেলথ অ্যাপ।
নেতিবাচক দিক: হুপ-এর তুলনায় ব্যাটারি লাইফ কম (৭ দিন), এবং এর এআই ফিচারগুলো এখনো কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ বা গ্লিচ-যুক্ত।
মূল্য ও বাজার প্রতিযোগিতা
যেখানে হুপ ব্যবহার করতে হলে প্রতি বছর ২০০ থেকে ৩৬০ ডলারের চড়া সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়, সেখানে ফিটবিট এয়ারের হার্ডওয়্যারের দাম মাত্র ১০০ মার্কিন ডলার। এর বেসিক এআই কোচ ও গুগল হেলথ অ্যাপের বেশিরভাগ ফিচারই একদম ফ্রি, আর প্রিমিয়াম প্ল্যানের জন্য মাসে খরচ হবে মাত্র ১০ ডলার। কম খরচ এবং গুগলের শক্তিশালী সফটওয়্যারের কারণে স্ক্রিনহীন ফিটনেস ট্র্যাকারের বাজারে এটি একটি গেম-চেঞ্জার হতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





