যেভাবে ক্যারিয়ারমুখী করা হচ্ছে ২০২৭ সালের আইসিটি পাঠ্যক্রম
আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যবইয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত জ্ঞানে ইংরেজি মাধ্যমের ('এ' ও 'ও' লেভেল) শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে, যা তাদের কর্মজীবনের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে রাখছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বর্তমান আইসিটি পাঠ্যবইগুলি যুগের চাহিদা পূরণে অনেকটাই অপারগ হওয়ায় এই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছিল। এনসিটিবি-র গবেষণা কর্মকর্তা মু. আবদুল্লাহ আল যোবায়ের জানিয়েছেন, নতুন পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে পারবে।
এই নতুন পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি, ন্যানো টেকনোলজি, স্মার্ট হোম এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট (যেমন স্টারলিংক কীভাবে কাজ করে) এর মতো অত্যাধুনিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও, ক্লাউড কম্পিউটিং, ক্যানভা দিয়ে প্রেজেন্টেশন তৈরি, এআই ব্যবহার করে ছবি প্রক্রিয়াকরণ ও ভিডিও এডিটিংয়ের মতো ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকবে। একইসাথে, সাইবার বুলিং, অনলাইন গুজব, সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার আইন, স্প্যামিং, ফিশিং এবং মিডিয়া লিটারেসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বিশদ জ্ঞান লাভ করবে।
নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এই বিষয়গুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। সূত্রমতে, বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি এবং ন্যানো টেকনোলজি বিষয়ক আলোচনা থাকবে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে থাকছে মিডিয়া লিটারেসি সম্পর্কে ধারণা, উপাদান ও বৈশিষ্ট্য, অনলাইন জুয়া, ট্রেডমার্ক, ডিজিটাল নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন আইনের প্রয়োজনীয় কিছু ধারা সংযোজন, সাইবার নিরাপত্তার ধরন, এর প্রতিরোধ ও প্রতিকার, হ্যাকিং, ট্র্যাকিং, স্প্যামিং এবং ফিশিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। তৃতীয় অধ্যায়ে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও ডিজিটাল টুইন নিয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। চতুর্থ অধ্যায়ে গ্রাফ তৈরি ও রিপোর্ট লিখন শেখানো হবে। পঞ্চম অধ্যায়ে ক্যানভা ব্যবহার করে প্রেজেন্টেশন তৈরি, এআই-এর সাহায্যে ছবি প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্যামটেশিয়া দিয়ে ভিডিও এডিটিংয়ের মতো ব্যবহারিক কাজ শেখানো হবে। আর ষষ্ঠ অধ্যায়ে ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্টের মৌলিক ধারণা এবং রেকর্ড সংযোজন-বিয়োজন সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি বাধ্যতামূলক পাঠ্য করা হয়। এর এক দশক পর ২০২৫ সালে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম ও দশম শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বইটি বাধ্যতামূলক করা হয়।
ডিবিটেক/এসএইচ/এমইউআইএম



