হাইব্রিড-ইভি গাড়িতে শুল্ক কমানোর দাবি বারভিডার

২ মে, ২০২৬ ২১:৫৪  
জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। একই সঙ্গে আমদানি নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে তুলে ধরে বারভিডা বলছে, সরকার ‘ইলেকট্রিক ভেইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ করেছে এবং এ খাতে কর ছাড় ও প্রণোদনাও দিয়েছে।
তবে সংগঠনটির মতে, পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় চলাচল সক্ষমতা এবং সার্ভিসিং নেটওয়ার্কের মতো বিষয়গুলো এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর আগে এসব বিষয় ধাপে ধাপে কার্যকর করতে হবে, বলছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে তারা বলছে, হাইব্রিড ও প্লাগ ইন হাইব্রিড গাড়ি যেহেতু ইলেকট্রিক গাড়ির সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, তাই ইভির জন্য দেওয়া সুবিধা ও প্রণোদনার প্রেক্ষাপটে এসব গাড়ি এবং জাপানের রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতেও শুল্ক-কর হ্রাস করা উচিত।
দেশে গাড়ি তৈরির লক্ষ্যে ‘অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২১’ এবং ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়ে বারভিডা বলেছে, রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতে স্থানীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং মানসম্পন্ন জাপানি গাড়ির চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটি ‘সমন্বিত মোটরযান উন্নয়ন নীতিমালা’ প্রয়োজন।
জাইকার বরাত দিয়ে সংগঠনটি বলছে, দেশে নতুন গাড়ি শিল্প প্রতিষ্ঠা যুক্তিযুক্ত হতে হলে অভ্যন্তরীণ বাজার ১ লাখ ইউনিট হতে হবে। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের গাড়ির বাজার বছরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার ইউনিট।
এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ‘মাস্টারপ্ল্যান’ করে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছে বারভিডা।
২ মে, শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরস্থ আকরাম টাওয়ারে আনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই পরামর্শ দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বিদ্যমান শুল্ক হ্রাস করা জরুরি। একই সঙ্গে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর কর কমানোর দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইলেকট্রিক গাড়ি শিল্পে সরকারের বিদ্যমান প্রণোদনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে কর ছাড় দিলে বাজারে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি ব্যয় কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে।
বারভিডা সভাপতি জানান, প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে গাড়ির দাম মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। ফলে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে মোটরযান খাতে যুক্তিসংগত শুল্ক কাঠামো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশে মানসম্মত, নিরাপদ ও স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ব্যবসায়ীরা সৎভাবে ব্যবসা করতে চান, কিন্তু বাস্তবে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। তার অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে ভ্যাট কর্মকর্তারা আইন না মেনে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট সমস্যার কারণে অনেক ব্যবসায়ী হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং কেউ কেউ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান খান চট্টগ্রামের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সেখানে অস্বাভাবিক হারে ভ্যাট অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। তার দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীকে অডিটের আওতায় আনা হয়েছে, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর আগের হিসাব চাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় নথিপত্র সংরক্ষণে সীমাবদ্ধতা থাকায় এখন সেই সময়ের তথ্য সরবরাহ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
ডিবিটেক/জেনও/ইকে