মহাকাশ ও ড্রোন প্রযুক্তিতে বহুমাত্রিক উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
বাংলাদেশের মহাকাশ, স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
১৮ মে, সোমবার রাজধানীর রমনায় আইইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্যাটেলাইট, ড্রোনস অ্যান্ড ফিউচার স্পেস টেকনোলজি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের যুগে স্যাটেলাইট, ড্রোন ও স্পেস টেকনোলজি এখন আর বিলাসিতা নয়; জাতীয় উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট শুধু সফলভাবে পরিচালিতই হচ্ছে না, এটি ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মুনাফাও অর্জন করেছে, যা দেশের মহাকাশ সক্ষমতার বাস্তব উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্বাভাস, নদীভাঙন পর্যবেক্ষণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং গভীর সমুদ্রে থাকা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার আগাম বার্তা দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ড্রোন এখন শুধু ফটোগ্রাফি বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি ব্যবস্থাপনা, জরিপ কার্যক্রম এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এটি কার্যকর প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকার ভবিষ্যতে লো আর্থ অরবিট (এলইও) ভিত্তিক নতুন স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যাতে আরও নির্ভুল ও কার্যকর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে স্পেস ডাটা ও অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
আইইবি'র কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সভাপতি প্রকৌশলী শাহীন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম রেজু, আইইবি ভাইস প্রেসিডেন্ট খান মনজুর মোরশেদ, শেখ আল আমিন প্রমুখ।
সেমিনারে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের মহাকাশ প্রযুক্তির সম্ভাবনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তরুণ প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডিবিটেক/জেডিএস/ইকে



