শেখ হাসিনার বিচারকাজ সম্প্রচারকালে ফেসবুক পেজে সাইবার হামলা

শেখ হাসিনার বিচারকাজ সম্প্রচারকালে ফেসবুক পেজে সাইবার হামলা
১২ অক্টোবর, ২০২৫ ২৩:১০  

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। ১২ অক্টোবর রবিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। 

 ১২ অক্টোবর, রবিবার ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব খাদ্য ফোরাম (ওয়ার্ল্ড ফুড তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজের ওপর সাইবার অ্যাটাক করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে পেজটাকে সাময়িকভাবে ডিসেবল করে দিয়েছিল তারা। যদিও তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যুক্তিতর্কে বহু তথ্য-প্রমাণসহ তাদের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা যেন গোটা দুনিয়াবাসী জানতে না পারে, সে জন্যই আমাদের এই ফেসবুক পেজের ওপর সাইবার হামলা চালিয়েছে অপরাধী ও তাদের সহযোগীরা। তারা দুনিয়াকে এটা জানতে দিতে চায় না যে বিচারটা কতটা ট্রান্সপারেন্ট বা স্বচ্ছ হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণগুলো কতটা অকাট্য সেটা তারা বুঝতে দিতে চায় না। কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত এটা উদ্ধার করতে পেরেছি।

অপরাধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের বার্তা হচ্ছে অপরাধ করে যেমন পার পাওয়া যাবে না, অপরাধীকে রক্ষা করারও কোনো চেষ্টা বাংলাদেশে সফল হবে না, ইনশাআল্লাহ। আমরা কারো প্রতি কোনো রকমের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা করছি না। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি। 

এর আগে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রথম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন কালে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় বৈঠক হতো। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে কোথায় কোথায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে। সেখানে প্রটোকলের বাইরেও অনেকে উপস্থিত থাকতেন। সেখানে হেলিকপ্টার ব্যবহারের আলোচনাও হয়। ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, আসাদুজ্জামান কামাল ও সালমান এফ রহমানের সমন্বয়ে ‘গ্যাং অব ফোর’ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সালমান এফ রহমান প্রতিমন্ত্রী পলককে বলেছিলেন, ‘ইন্টারনেট তো বন্ধ করেছই, টিভির সম্প্রচারও বন্ধ করে দাও, আমরা ক্র্যাকডাউনে যাব। ’ ৫ আগস্ট যদি হাসিনার সরকার পতন না হতো, ৬ আগস্ট বাংলাদেশে আমরা যে কত মানুষের লাশ দেখতাম, তা কল্পনাও করা যায় না। কারণ সালমান এফ রহমান বারবার উসকানি দিচ্ছিলেন। হাসিনা ও শেখ তাপসের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে আমরা লেথাল উইপন ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে শুনিয়েছি। হাসিনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে।