ফেসবুকে হঠাৎ আলোচনায় হুমায়ূন-গুলতেকিন
গুলতেকিন খান। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম ও সাবেক স্ত্রী। ৩ অক্টোবর বেলা তিনটার দিকে মুঠোফোন থেকে ফেসবুকে একটা পাবলিক পোস্ট দিয়েছেন। চার ঘণ্টায় এটি শেয়ার হয় সাড়ে চার হাজার। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে নাগাদ প্রতিক্রিয়া বা রিঅ্যাকশনে স্যাড বা দুঃখের ইমোজি সাড়ে ১৫ হাজার, লাইক ৬ হাজারের বেশি, লাভ আড়াই হাজার এবং কেয়ার ইমোজি করেন ৯২৮ জন ।
‘আমার সম্পর্কে একটাও খারাপ কথা শুনতে চাই না’ দিয়ে লেখাটি শুরু করলেও পোস্টটি নিয়ে সোশ্যাল হ্যান্ডেলটিতে আলোচনা এখন তুঙ্গে। রীতি মতো #গুলতেকিনখান ও #হমায়ুনআহমেদ দিয়ে লেখাগুলো শেয়ার করা হচ্ছে ফেসবুকে।
গুলতেকিনের পোস্টের মন্তব্যে রীমু রোজা খন্দকার নামের এক ফোসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “কে কি মনে করবেন জানি না ???? তবে এখন এই কথা গুলো না বললেই পারতেন #গুলতেকিনখান mam কারন #হমায়ুনআহমেদ Sir বেঁচে থাকতে “আপনি কোন দিন কোন কথা (পড়ুন ভালো বা মন্দ কথা) ভুলেও বলেননি ???? অবশ্যই শ্রদ্ধা করি আপনার মনোবল বা সাহসের এবং মেয়েদের জন্য এই “একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করার জন্য” ধন্যবাদ ????
ফুটনোট- যতদূর জানি আপনারা প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন????
‼️এই লেখাতে আমার সম্পর্কে একটিও খারাপ মন্তব্য দেখতে চাই না!”
শাহান আফরোজ লাবণী লিখেছেন “মেয়েরা সাহস করে কখনোই এসব বলতে পারেনা। গুলতেকিন পারছেন।সবারই বলার রাইট আছে।???? হুমায়ুন আহম্মেদ লিখেছেন নিজের জনপ্রিয়তার জন্যে। আজ পর্যন্ত মনে হয় কেউই নিজের আত্মজীবনী ১০০% সততার সাথে লিখতে পারেননি, মিথ্যে , কিছু রঙিন বানিয়ে , রস লাগিয়ে ।???? গুলতেকিনেরও রাইট আছে লিখার, কিন্তু কারো অবর্তমানে উনাকে নিয়ে নেগেটিভ কিছু লিখা ঠিকভাবে নেয়না সবাই।????এরপরও আমরা চাই উনি লিখতে থাকুন, শুভকামনা থাকবে সবসময়। ????????”
মেহেদী হাসান লিখেছেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকলে গুলতেকিনের জন্য একটা বার্তা দিতেন। বার্তার সারমর্ম হতো, অভিমান করো না প্রাক্তন প্রিয়তমা।’
মম সাহা লিখেছেন, ‘হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে পোস্ট করায় একজন রেগে বললেন, আমার হুমায়ূনের মতন জামাই হোক তাহলে বুঝবো আমি। ভাবছি কাল মুকেশ আম্বানি, বিল গেটসকে নিয়ে পোস্ট করবো। এদের মাঝে একজনের মতন জামাই পাওয়ার অভিশাপ কেউ দিয়ে দিলেই জীবন লালে লাল।’
রেজা শাহীন লিখেছেন, ‘ডিভোর্সের ৮ বছর পর অবধি হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে ছিলেন। জীবিত থাকার সময় গুলতেকিন খানের মনে হয়নি এই কথাগুলো বলা দরকার? কথাগুলো সত্য নাকি মিথ্যে এটা মানুষজন কীভাবে জানবে? হুমায়ূন আহমেদ যেহেতু জীবিত নেই, তাই আত্মপক্ষ সমর্থনেরও সুযোগ নেই।’
জাহান সুলতানা লিখেছেন, ‘হুমায়ূন ফরিদীকে ডিভোর্স দেওয়ার পর সুবর্ণা মুস্তফা বলেছেন, ‘উনি উনার স্বামীকে নিয়ে কিছু বলতে চান না। কারণ অপরপক্ষ জীবিত নেই।’ গুলতেকিন খান, আপনারও উচিত ছিল চুপ করে থাকা।’
পাভেল রহমান লিখেছেন, ‘এত বছর পর গুলতেকিনের একপাক্ষিক কথা দিয়ে হুমায়ূন আহমেদকে বিচার করার সুযোগ নাই। এ বিষয়ে এখন তো আর হুমায়ূন আহমেদের বক্তব্য জানা যাবে না। তাই আমি মনে করি, গুলতেকিনের থামা উচিত। হুমায়ূন জীবিত থাকতে যে কথা পাবলিকলি বলা হয়নি, মৃত হুমায়ূনকে নিয়ে তা বলার কোনো অর্থই হয় না।’
নিরোজা কামাল লিখেছেন, ‘ফেসবুকের সুবিধা নিয়ে যা খুশি লেখা যায়। গুলতেকিন খান হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লিখেছেন, লিখতেই পারেন। দীর্ঘদিন ঘর করেছেন। সন্তানাদির মা হয়েছেন একাধিকবার। হুমায়ূন আহমেদকে চিনেছেন তার মতো করে। শুধু নিজেকে চেনেন নাই গুলতেকিন।’
কামরুল হাসান ইমন লিখেছেন, “গুলতেকিন খান তার লেখা শুরুই করেছেন— 'আমার সম্পর্কে একটাও খারাপ কথা শুনতে চাই না' দিয়ে।
কী আজব! মনে হচ্ছে স্বঘোষিত ফেরেস্তা!”
আমিনা জাহান নিশি লিখেছেন, “হুমায়ূন নাই মাঠ ফাঁকা গুলতেকিন ইচ্ছে মতো বক্তব্য দিচ্ছে ওদিকে শাওন কিছু বলছেনা! এই দিকে আমাদের শাকিব খান এগিয়ে আছে, অপু পোস্ট দিলেই বুবলি রিপ্লাই করে ????????
আচলেই হুমায়ূনের জীবনের গবিলতার অবাব! (2)”
সৈয়দ মোহাইমেন খালেদ মাহমুদ নিজের ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, “হুমায়ুন আহমেদ মারা গেছেন। উনার সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান উনাকে উনার মৃত্যুর পর রীতিমত ভিলেইন হিসেবে উপস্থাপন করছেন ফেইসবুকে। সমস্যা হল , মৃত মানুষ আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন না। আবার গুলতেকিন যা বলছেন , তা সত্য হতে ও পারে। আমরা কষ্ট পাই , যারা প্রথম যৌবনে পড়েছিলাম হুমায়ুন লিখছেন গুলতেকিনের উদ্দেশ্যে , ' তোমাকে এনে দেব সাতটি অমরাবতী ' .. আহা ! সে কি প্রেম !! .. এখনো ইচ্ছা করে ভালোবাসায় বিশ্বাস করতে , যদি ও জানি যে , জীবন খুব কঠিন ও নির্মম ...”
সঞ্জয় সরকার লিখেছেন, “প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের একটা কথা আমার খুব পছন্দ। জানতে হবে কোথায় থামতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থামতে না পারলে লেজেগোবরে অবস্থা হয়ে যায়।
গুলতেকিন খান সম্ভবত এই জায়গায় ভুল করতে যাচ্ছেন। তিনি থামবেন না। একটা বড় ধরনের ‘ব্লেন্ডার’ করবেন। এতদিন তাঁর প্রতি মানুষের যে ‘সফট কর্নার’ ছিল সম্ভবত সেটাও তিনি হারাবেন।”
হাবিবা সরকার হিরা লিখেছেন, “হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ মৃত্যুর আগে বলেছিলেন,-বড় বউ যেন আমার বুকে হাত বুলিয়ে দেয় তাহলে আমি শান্তি পাব। গুলতেকিন খান প্রাক্তন শ্বাশুড়ির কথামত বুকে হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন।
রত্নগর্ভা মা আয়েশা ফয়েজের শুধু একটা কথার দ্বারাই গুলতেকিন খান সমস্ত নেগেটিভ চিন্তার উর্ধ্বে চলে যান। যেই দেশে ছেলের বউকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা শ্বাশুড়িগণ সারাক্ষণ বউকে ছোবল মারতে ব্যস্ত থাকেন সেখানে প্রাক্তন শ্বাশুড়ি তাকে ভালো মেয়ের সার্টিফিকেট দিয়ে গেছেন।
তাই গুলতেকিনের ভালো-মন্দ আপনি আমি বিচার না করলেও চলবে।আফসোস একটাই,একজন কিংবদন্তী লেখক ঘরে কষ্টিপাথর রেখে বাহিরে চকমকি পাথরের প্রেমে পড়েছিলেন....”
এমন বিস্তর মতামতের মধ্যেই নিজের এই বিস্ফোরক পোস্ট পাবলিক পোস্ট থেকে সরিয়ে ফেলেছেন গুলতেকিন খান।







