সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হলেন আবদাল আহমদ
সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। সরকারের সচিব পদমর্যাদায় এক বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিতে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২৬ এপ্রিল, রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার (গ্রেড-১) পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
সৈয়দ আবদাল আহমদ বর্তমানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং কিশোর মাসিক টুনটুনির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
সাংবাদিকতা জীবনে সৈয়দ আবদাল আহমদ ১৯৮২ সালে দৈনিক বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এই পত্রিকায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি বাসস, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক দিনকাল, সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
তিনি ২০১১-২০১৫ সময়কালে পরপর দুই মেয়াদে টানা পাঁচ বছর জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৯২-৯৬ মেয়াদে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেসসচিব (সরকারের উপসচিব পদমর্যাদা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সৈয়দ আবদাল আহমদ ১৯৬২ সালের ২৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার নাসিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি অনার্স ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৯ সালে মর্যাদাপূর্ণ ফিলিপস পুরস্কার ও এসকাপ-এফইজেবি পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০২৫ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে আজীবন সম্মাননা পান।
তিনি বাংলা একাডেমির একজন আজীবন সদস্য। তিনি ২০টিরও বেশি বইয়ের রচয়িতা। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’, ‘বুড়িগঙ্গা তীরের রহস্যনগরী’, ‘কিংবদন্তির জিয়া’, ‘মহান ভাষা আন্দোলন’, ‘জলবায়ু পরিবর্তন’, ‘নবীজি (সা.)’ ইত্যাদি।
ডিবিটেক/এসএ/ইকে







