যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স বটমস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ নির্বাহী বা গভর্নর পদে নির্বাচিত হয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এই নির্বাচনটি কেবল একটি সাধারণ জয় নয়, বরং কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জন্য আড়াই শতক ধরে বজায় থাকা এক অদৃশ্য দেয়াল বা ‘গ্লাস সিলিং’ ভাঙার ঐতিহাসিক সাফল্য। দীর্ঘ সময় ধরে […] The post যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স বটমস first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ নির্বাহী বা গভর্নর পদে নির্বাচিত হয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এই নির্বাচনটি কেবল একটি সাধারণ জয় নয়, বরং কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জন্য আড়াই শতক ধরে বজায় থাকা এক অদৃশ্য দেয়াল বা ‘গ্লাস সিলিং’ ভাঙার ঐতিহাসিক সাফল্য। দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আফ্রিকান-আমেরিকান নারীদের অব্যাহত লড়াই এবং পূর্ববর্তী প্রার্থীদের পথচলার ফসল হিসেবেই আজ এই ঐতিহাসিক শুভসূচনা সম্ভব হয়েছে।
কেইশা ল্যান্স ও তার রাজনীতি
কেইশা ল্যান্স বটমস তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দায়িত্ব পালন করে নিজের নেতৃত্বের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করেছেন। জর্জিয়ার রাজধানী আটলান্টার সাবেক সফল মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার জন্য দেশজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকট এবং বর্ণবাদবিরোধী ঐতিহাসিক ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সময় আটলান্টার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরীর অভিভাবক হিসেবে তার শান্ত, দৃঢ় ও বিচক্ষণ ভূমিকা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে এক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। পরবর্তীতে জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন।
পূর্বে ভোটের লড়াইয়ে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের উপস্থিতি
কেইশা ল্যান্স বটমসই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী নন যিনি গভর্নরের পদে লড়াইয়ে নেমেছিলেন। এর আগেও ডেমোক্রেটিক পার্টির ব্যানারে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আফ্রিকান-আমেরিকান নারী দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী ময়দানে লড়েছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ডেমোক্র্যাট নেত্রী স্টেসি আব্রামস। তিনি ২০১৮ এবং ২০২২ সালে জর্জিয়া থেকেই গভর্নর পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং প্রতিবারই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর পরাজিত হন। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও বিভিন্ন সময়ে শেরি বিসলি (নর্থ ক্যারোলাইনা) কিংবা ডিড্রা ডিজার (আইওয়া)-এর মতো নারী প্রার্থীরা এই শীর্ষ পদের জন্য লড়াই চালিয়েছিলেন। তবে কাঙ্ক্ষিত জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে তাদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে।
কেন এতকাল কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা নির্বাচনে আসতে পারেনি
মার্কিন রাজনীতিতে কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক হলেও রাজ্য স্তরের শীর্ষপদে পৌঁছাতে তাদের বহুমুখী বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
প্রথমত, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও শ্বেতাঙ্গদের ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজ্যভিত্তিক নির্বাচনে বড় প্রতিবন্ধক ছিল। সিনেট বা গভর্নরের মতো অঙ্গরাজ্যব্যাপী (Statewide) নির্বাচনে জয়ী হতে গেলে একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ভোটার গোষ্ঠীর সমর্থন লাগে, যেখানে শ্বেতাঙ্গ ও রক্ষণশীল ভোটারদের মন জয় করা কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের জন্য সামাজিক ও বর্ণগত পূর্বাগ্রহের কারণে কঠিন হয়ে দাঁড়াত।
দ্বিতীয়ত, বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী অর্থ জোগাড় বা ফান্ডরাইজিং (Fundraising)। গভর্নর পদের ক্যাম্পেইনে কোটি কোটি ডলারের প্রয়োজন হয়, কিন্তু কর্পোরেট দাতা এবং দলীয় নীতিনির্ধারকরা ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ নারী প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিধায় থাকতেন, যার ফলে প্রয়োজনীয় প্রচার তহবিলের বড় ঘাটতি তৈরি হতো।
তৃতীয়ত, দ্বি-স্তরীয় বৈষম্য বা ইন্টারসেকশনালিটি (Intersectionality)। আফ্রিকান-আমেরিকান নারীদের একদিকে বর্ণবাদ এবং অন্যদিকে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এই দুই বিপরীতমুখী স্রোত পার হয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হয়েছে।
কেইশার ঐতিহাসিক বিজয় ও মার্কিন রাজনীতির মোড় পরিবর্তন
২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে কেইশা ল্যান্স বটমস সব সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণকে ভুল প্রমাণ করে জয়ী হয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে কেইশা ল্যান্স বটমসের এই অর্জন বিশ্বজুড়ে নারী সমাজকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে নারীদের এই অবিরাম অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে, যোগ্যতা, অদম্য ইচ্ছা এবং জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্ব দিয়ে কাচের ছাদ ভেঙে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আঙিনায় তার এই ঐতিহাসিক অভিষেক আগামী দিনে আরও বহু তরুণী ও নারীকে রাজনীতিতে আসার এবং দেশের নীতিনির্ধারণে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই বিজয় শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়ন এবং বৈচিত্র্যময় রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রে এক বড় বার্তা। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে দাসপ্রথা ও চরম বর্ণবৈষম্যের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে এক নতুন ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর রচিত হলো।
The post যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর কেইশা ল্যান্স বটমস first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.





