শি'আনে এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমাতে তিন দফা প্রস্তাব মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের

ডিজিটাল সিল্ক রোডে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান বাংলাদেশের

চীনের শি'আনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্সে বাংলাদেশের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এআই, ডিজিটাল সিল্ক রোড, সাইবার নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি অংশীদারত্বে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ডিজিটাল সিল্ক রোডে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের আহ্বান বাংলাদেশের
২২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৪  

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে বিশ্বাসভিত্তিক বৈশ্বিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, “আমরা একা এই পথ তৈরি বা অতিক্রম করতে পারব না। বাংলাদেশ তার কানেক্টিভিটি, তরুণদের বিপুল শক্তি এবং উদ্ভাবনী স্পিরিট নিয়ে এই বৈশ্বিক অগ্রযাত্রায় একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত অংশীদার হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

চীনের শানশি প্রদেশের ঐতিহাসিক নগরী শি'আনে ২২ জুলাই, বুধবার অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স ডিজিটাল সিল্ক রোড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম’-এর সমাপনীতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ডিজিটাল সিল্ক রোড কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।

তিনি ফোরামে তুলে ধরেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিং (ML) ব্যবহার করে নদীর বন্যা পূর্বাভাস প্রদান করছে এবং বদ্বীপ অঞ্চলের কৃষিতে ড্রোন প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করছে। এসব উদ্যোগ কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাইবার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “সাইবার স্পেস একটি দ্বিমুখী তলোয়ার। একদিকে এটি উন্নয়নের শক্তিশালী মাধ্যম, অন্যদিকে সাইবার অপরাধ, অপতথ্য এবং ডেটা মেরুকরণের মতো ঝুঁকিও তৈরি করে। তাই এর শাসনব্যবস্থা হতে হবে বহুপাক্ষিক, স্বচ্ছ, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সম্মানজনক।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য তিনি তিনটি প্রধান প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রথমত, অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা। দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি, সাইবার বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে জ্ঞান বিনিময়ের জন্য যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন। তৃতীয়ত, ডিজিটাল সম্পদ, এআই মডেল, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (IP) ও ডেটাকে বৈশ্বিক জনকল্যাণমূলক সম্পদ (Public Goods) হিসেবে বিবেচনা করে প্রযুক্তির সুবিধা সবার নাগালের মধ্যে নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত বৈষম্য (Digital Divide) যেন আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল সম্পদের ব্যবহার সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখতে হবে।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডিজিটাল বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ভিত্তিতেই একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

ফোরামে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তি খাতের নেতৃবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, সিল্ক রোড ই-কমার্স, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া কোয়ালকম, লেনোভো, জেডটিই, ৩৬০, সুগন, ওয়াটারড্রপ, কিসন টেকনোলজি, পেঙ্গুয়া ফান্ডসহ চীনের এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ফোরামে অংশ নেন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমআই//