মহাকাশ বিজ্ঞানে শিশু-কিশোরদের হাতে-কলমে উদ্ভাবনী দীক্ষা
বিইউবিটিতে অনুষ্ঠিত হলো ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ
- বিইউবিটিতে অনুষ্ঠিত হলো মহাকাশ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উৎসব
- ৫০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে স্টোরিটেলিং, রোবটিক্স ও রকেটারি কর্মশালা
- ৩টি গ্রুপে ১৫ জন ক্ষুদে শিক্ষার্থী পুরস্কৃত
মহাকাশ বিজ্ঞান, রোবটিক্স এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি দেশের শিশু-কিশোরদের গভীর কৌতূহল ও উদ্ভাবনী মেধা বিকাশের লক্ষ্যে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল ফিউচার অ্যাস্ট্রোনটস মিট-আপ ২০২৬’। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্প এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রযুক্তি উৎসবে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৫০ জন শিক্ষার্থী মহাকাশ অভিযাত্রা ও আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
ঢাকার মিরপুর-২-এর রূপনগরে অবস্থিত বিইউবিটি ক্যাম্পাসে ৩ অক্টোবর, শনিবার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল শিশুদের ‘স্পেস স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা’। প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা মহাকাশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন, প্রযুক্তিগত ধারণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ৩ মিনিটের প্রাথমিক উপস্থাপনা দেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা দ্বিতীয় ধাপে ৫ মিনিটের চূড়ান্ত উপস্থাপনায় অংশ নেয়। বয়স অনুযায়ী ৬–৮ বছর, ৯–১১ বছর এবং ১২–১৪ বছর—এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতা শেষে মোট ১৫ জন ক্ষুদে বিজয়ীকে মেডেল ও সম্মাননা দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পুরো দিনজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল আধুনিক বিজ্ঞান ও মহাকাশ প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী। এর মধ্যে ছিল স্পেস রোবটিক্স, রোবট অ্যাসেম্বলিং, রকেটারি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, স্পেস আর্ট এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) সিমুলেশনের মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণের ত্রিমাত্রিক অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটি উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শওকত আলী। বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি অনুরাগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জানান, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও মহাকাশ গবেষক। নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তির শুধু ভোক্তা না হয়ে নতুন প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে; অধ্যবসায় ও অনুসন্ধিৎসাই মহাকাশ জয়ের স্বপ্নকে সত্য করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিইউবিটির ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ডিন ড. মুহাম্মদ আমিনুর রহমান। বিচারকদের পক্ষ থেকে শিশুদের বৈজ্ঞানিক সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আল ইমতিয়াজ।
সমাপনী পর্বে বক্তব্য রাখেন স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু। তিনি জানান, মহাকাশ বিজ্ঞান যেন পাঠ্যবইয়ের পাতায় আটকে না থাকে, বরং শিশুরা প্রশ্ন করুক, রোবট তৈরি করুক এবং রকেট প্রযুক্তির খুঁটিনাটি জানুক—এটাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য; এখান থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ মহাকাশচারী গড়ে উঠবে। এই উদ্যোগে টেকনোলজি ও এআই পার্টনার হিসেবে ছিল রাইজ আপ ল্যাবস এবং পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সূর্যপে। অতিথি ও বিচারকদের সম্মাননা ক্রেস্ট হস্তান্তর এবং গ্রুপ ছবির মাধ্যমে মহাকাশ উৎসবটির সমাপ্তি ঘটে।
//ডিবিটেক/এএইচও/এসএমপি/বিপিসি//





