দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সংকট কাটিয়ে সরবরাহ ছাড়াল ২৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট; শিল্প ও আবাসিকে স্বস্তি
মহেশখালীতে এলএনজি স্থানান্তর শুরু, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক
- বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ার পর মহেশখালীর সামিট টার্মিনালে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা কার্গো থেকে এলএনজি খালাস শুরু
- শুক্রবার সকাল থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ বেড়ে ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে
- দেশীয় কূপ থেকে ১,৬০৭ মিলিয়ন এবং এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হওয়ায় স্বাভাবিক হলো বিতরণ
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কক্সবাজারের মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে কার্গো থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তর শুরু হয়েছে। এর ফলে ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে এবং বিতরণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, সকাল ৭টা থেকে জাতীয় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বর্তমানে গ্রিডে সামগ্রিক সরবরাহ ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি নিশ্চিত করা গেছে এবং ক্রমান্বয়ে এটি আরও বাড়বে। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আবাসিক খাতে চলমান চাপ কমে এসেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৪১ মিলিয়ন ঘনফুট। এ সময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৬০৩ মিলিয়ন ঘনফুট এবং পুনঃবাষ্পীকৃত এলএনজি (আরএলএনজি) থেকে যুক্ত হয় ৭৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট। পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে মোট সরবরাহ আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে। যার মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন এবং টার্মিনাল থেকে ৯১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘টোটালএনার্জিজ’-এর মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে কেনা একটি এলএনজিবাহী কার্গো থেকে সকাল ৭টায় মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে খালাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপরই মূলত পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে তীব্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নিরাপত্তা জনিত কারণে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি জাহাজ থেকে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। টার্মিনালে খালাস বন্ধ থাকায় আরএলএনজি সরবরাহ কমে গিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্প ও গৃহস্থালি পর্যায়ে মারাত্মক গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানান্তর পুনরায় শুরু করে সংকট সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
//ডিবিটেক/ জেএনডিপি/এসএমই/এমআইএসটি//





