জরুরি সেবা বাদে সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ডাক শিক্ষক সমিতির; নতুন ভিসি শরীফুল আলমের দাবি—পরিস্থিতি স্বাভাবিক, শিগগিরই যাচ্ছেন ক্যাম্পাসে
চুয়েট উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি, আন্দোলনের গুরুত্ব ওড়ালেন নতুন ভিসি
- সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সর্বাত্মক কর্মবিরতি ঘোষণা
- আবাসিক হল ও জরুরি পরিষেবা কর্মবিরতির আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ
- নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের যোগদানপত্র জমা; আন্দোলনের ব্যাপকতা নাকচ করে ক্যাম্পাসে দ্রুত প্রবেশের ঘোষণ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ ও নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। সাবেক ভিসিকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। তবে এই আন্দোলনকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম; তার দাবি, ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তিনি যেকোনো সময় দায়িত্বভার গ্রহণ করতে সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় জুম প্ল্যাটফর্মে চুয়েট শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ জানান, উপাচার্যের অপসারণ কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত এই সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলবে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন, ডাইনিং ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীব জরুরি দাফতরিক কার্যক্রমসমূহ এই কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক সমিতির সদস্যদের জড়িয়ে ছড়ানো মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ও কর্মচারী সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও শিক্ষকদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছিল।
এদিকে উদ্ভূত আন্দোলনকে বড় পরিসরের নয় বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন। ক্যাম্পাসে চলা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আন্দোলনের পরিধিটি অতটা বড় নয়। সেখানে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী জড়িত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে তালা খুলে দিয়েছে এবং অনেকেই আমাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে এবং রোববারের আগেই বা উপযুক্ত সময়ে আমি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চুয়েটে যাব।"
চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসের প্রতি নিজের আবেগের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশ তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
//ডিবিটেক/ টিএ/ এসএমই/ এমআইএসটি//





