শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব পক্ষের মতামত নিচ্ছে কমিটি

চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে ইউজিসির উদ্যোগ

  • চুয়েটের সংকট নিরসনে ছয় সদস্যের ইউজিসি পরামর্শক কমিটি মতবিনিময় করছে
  • সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা
  • সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সরকারকে পরিস্থিতি উন্নয়নের পরামর্শ দেবে কমিটি

চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে ইউজিসির উদ্যোগ
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৩  

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা নিরসনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য শুনছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি। ২৮ অক্টোবর, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে পৃথক বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও দাবি শোনেন কমিটির সদস্যরা। এসব আলোচনা পর্যালোচনা করে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে সুপারিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও শোনার কথা রয়েছে।

কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। সদস্যসচিব ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।

শিক্ষকদের বক্তব্য ও লিখিত নথি

শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি এবং আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শিক্ষকদের অবস্থান কমিটির কাছে মৌখিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে লিখিত নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক রাশিদুল হাসান বলেন, কমিটি তাঁদের বক্তব্য শুনেছে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো সরকারের উচ্চপর্যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। এর মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল বলেন, শুরু থেকেই তাঁরা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড় রয়েছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও একই দাবিতে আন্দোলন করছেন। শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কমিটিকে জানানো হয়েছে।

ছাত্রদলের প্রতিনিধিদলের বক্তব্য

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ছাত্রদলের ছয় থেকে সাতজন নেতাকর্মী পরামর্শক কমিটির সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, তাঁরা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন। তাঁর ভাষ্য, উপাচার্য নিয়োগ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। তাঁরা নিজেদের শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান না; বরং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনায় অংশ নিতে এসেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং ক্লাস স্থগিত রয়েছে। তাঁর দাবি, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা কয়েকজনকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং কাউকে কাউকে বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অচলাবস্থা নিরসনের উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটির কাছে নিজেদের মতামত তুলে ধরতেই তাঁরা এসেছেন বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তাঁরা রাজনীতি করেন বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রদল সভাপতি।

সব পক্ষের বক্তব্য নিয়ে সুপারিশ

মতবিনিময় শেষে ইউজিসির সদস্য ও পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, চুয়েটের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম দিনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্যও শোনা হবে।

সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো জানা যায়নি।

//ডিবিটেক/মো: রাকিব হাসান/এসএমই/এফওই//