ডিজিটাল ব্যবধান ও এসডিজি ৯.সি-র বাস্তবতা
নেটওয়ার্কের আওতায় থেকেও কেন ইন্টারনেটের বাইরে
[হাইলাইটস]
|
ধরা যাক, একটি প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইলের পুরো সিগন্যাল রয়েছে। অথচ অনলাইন চাকরির আবেদনপত্র জমা দিতে গিয়ে বারবার সিস্টেম বাফার হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এক তরুণের। পাশের বাড়ির স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর সমস্যা আবার ভিন্ন—নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হলেও পরিবারে নিয়মিত ডেটা প্যাক কেনার আর্থিক সংগতি নেই। পরিসংখ্যানের খাতায় তাঁদের দুজনকে অবশ্যই 'নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতাভুক্ত' জনসংখ্যা হিসেবে দেখানো হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আধুনিক ইন্টারনেটের বাস্তব সুফল তাঁরা কতটুকু পাচ্ছেন? বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও অন্তর্ভুক্তির জাতীয় আলোচনায় এই প্রশ্নটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
দেশজুড়ে মোবাইল নেটওয়ার্কের বিস্তার নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় জাতীয় অর্জন। তবে সেই অর্জনের ওপর দাঁড়িয়ে এখন কেবল সংযোগের উপস্থিতিকে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য টেকসই সেবায় রূপান্তর করতে হবে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজির (SDG) ৯.সি লক্ষ্যমাত্রা আমাদের ঠিক এই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এই লক্ষ্যমাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিতে নাগরিকের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করা। নির্ধারিত সময়সীমা বহু আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে; তাই প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবে পূরণ হলো, তার নির্মোহ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এখানে পরিসংখ্যানগত একটি কাঠামোগত বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি। এসডিজি ৯.সি-র অগ্রগতি পরিমাপ করা হয় মূলত ৯.সি.১ সূচকের মাধ্যমে—যা নির্ধারণ করে প্রযুক্তিভেদে (যেমন ২জি, ৩জি বা ৪জি) মোট জনসংখ্যার কত অংশ কার্যকর মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় বসবাস করেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির সংকেত বা সিগন্যালের আওতাভুক্ত মানববসতির সংখ্যাকে জাতীয় মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করলেই এই কভারেজ অনুপাত পাওয়া যায়। কারও নিজের ফোন নেই, সিমকার্ড নেই, এমনকি জীবনে যিনি কখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করেননি—তাঁর বাড়ির ওপর দিয়ে যদি ফোরজি তরঙ্গের সিগন্যাল প্রবাহিত হয়, তিনিও সরকারি পরিসংখ্যানে ‘কভারেজপ্রাপ্ত’ হিসেবে নথিভুক্ত হবেন।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই কভারেজের গাণিতিক অর্থও পরিষ্কার থাকা দরকার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘অন্তত ৩জি’ ক্যাটাগরির ভেতর ৩জি ও পরবর্তী উন্নত প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকে; ‘অন্তত ৪জি’র ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ফলে এই হারগুলো সমান্তরাল যোগ করে মোট নেটওয়ার্ক কভারেজ নির্ধারণ করা যায় না। তাছাড়া এই সূচক কেবল মানুষের আবাসস্থলকে পরিমাপ করে; দেশের মোট ভৌগোলিক ভূখণ্ডের কত শতাংশে নিরবচ্ছিন্ন সিগন্যাল বিদ্যমান, তা এই হিসাবে আসে না।
ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (ITU) ডেটাহাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ মানুষ অন্তত ৪জি নেটওয়ার্কের আওতায় ছিলেন। অন্যদিকে জাতীয় এসডিজি ট্র্যাকারের তথ্যমতে, একই বছরে দেশের ৪জি কভারেজ ছিল ৯৯.৩০২৯ শতাংশ। উভয় হিসাবেই কভারেজ প্রায় শতভাগ বা সর্বজনীন। তবে একই বছরের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্যে এই সামান্য ব্যবধানের কারণও নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ব্যাখ্যা করা উচিত।
জাতীয় ট্র্যাকারে আরও একটি বড় ধরনের পরিসংখ্যানগত অসঙ্গতি চোখে পড়ে। সেখানে ২০২৫ সালের ৪জি কভারেজ দেখানো হয়েছে ১০০.০১১৭ শতাংশ। জনসংখ্যার অনুপাত কখনোই গাণিতিকভাবে শতভাগের বেশি হতে পারে না। এই জাতীয় ডেটাবেজের ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করে সংশোধন করা এবং তার ব্যাখ্যা প্রকাশ করা জরুরি; কারণ ত্রুটিপূর্ণ ডেটার ওপর দাঁড়িয়ে সঠিক জাতীয় বিনিয়োগ বা উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব নয়।
এবার নেটওয়ার্কের উপস্থিতির বিপরীতে ইন্টারনেটের প্রকৃত ব্যবহারের দিকে তাকানো যাক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) শ্রমশক্তি জরিপের ভিত্তিতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৫৯.২ শতাংশ। একই তথ্যে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার ৮৯.৬ শতাংশ হলেও এককভাবে নিজের ব্যক্তিগত ফোনের মালিকানার হার মাত্র ৬৫.৬ শতাংশ। পরিবারের অন্যের ফোন চেয়ে নিয়ে ব্যবহার করা আর নিজের প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক ডিভাইস ব্যবহারের স্বাধীনতার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।
তবে এখানে একটি প্রযুক্তিগত সতর্কতা থাকা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের কভারেজ পরিসংখ্যান থেকে ২০২৬ সালের ব্যবহারের হার সরাসরি বিয়োগ করে ঢালাওভাবে ‘ব্যবহার ঘাটতি’ (Usage Gap) নির্ধারণ করা বিজ্ঞানসম্মত নয়; কারণ দুটি পর্যালোচনার সময়কাল ও নমুনা জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অভিন্ন নয়। তবে এই পরিসংখ্যানগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি নির্মম সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে: কেবল টাওয়ার বসিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় সিগন্যাল পৌঁছে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না।
বাস্তবতার এই ঘাটতিগুলো কোথায়, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় হয়তো কোনো টাওয়ারই নেই; কোথাও টাওয়ার আছে, কিন্তু ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপে সংযোগ স্থবির হয়ে পড়ে; আবার কোথাও দুর্দান্ত নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও নাগরিকের ডিভাইস বা ডেটা কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই। এই তিন ভিন্ন সমস্যার সমাধান কখনো এক নীতি দিয়ে হতে পারে না। অবকাঠামোগত শূন্যতায় প্রয়োজন মূলধনি বিনিয়োগ; সেবার দুর্বলতায় দরকার স্পেকট্রাম বরাদ্দ, ফাইবারাইজেশন ও মান তদারকি; আর আর্থিক অসচ্ছলতায় প্রয়োজন সামাজিক সুরক্ষামূলক নীতি ও ভর্তুকি।
জাতীয় গড়ের আড়ালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন হারিয়ে না যায়। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করে দ্রুত বিপুল জনগোষ্ঠীকে পরিসংখ্যানে যুক্ত করা সহজ। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি জনপদ, উপকূলীয় এলাকা বা চরাঞ্চলের মতো বিচ্ছিন্ন জনপদে বাণিজ্যিক মুনাফার সম্ভাবনা কম থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের বিনিয়োগের আগ্রহ কম থাকে। বিটিআরসি (BTRC) যদি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক কভারেজ ও সেবার মানের পাবলিক ম্যাপ প্রকাশ করে, তবে জাতীয় ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে। একই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক ও সাইক্লোন শেল্টারের মতো অতি-জরুরি স্থাপনাগুলোর সংযোগের মান আলাদাভাবে অডিট করা প্রয়োজন।
সেবার মানের (QoS) তথ্য সাধারণ গ্রাহকের বোধগম্য ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। ঘরের ভেতরে (Indoor) নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় কি না, পিক-আওয়ারে ইন্টারনেটের কার্যকর গতি কত থাকে এবং মাসে কত ঘণ্টা সেবা বিঘ্নিত হয়—গ্রাহকের তা জানার অধিকার রয়েছে। অপারেটরদের বিজ্ঞাপনী সর্বোচ্চ গতির তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন ড্রাইভ টেস্ট ও সরাসরি গ্রাহক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে সেবার মান যাচাই করা উচিত।
এ জন্য কেবল টাওয়ারের সংখ্যা গুনে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। টাওয়ার থেকে কোর নেটওয়ার্কে ডেটা পরিবহনের অপটিক্যাল ফাইবার সক্ষমতা, পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যাকআপ ছাড়া মানসম্মত ব্রডব্যান্ড অভিজ্ঞতা পাওয়া অসম্ভব। অবকাঠামো শেয়ারিংয়ের সুযোগ বাড়ানো এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় রেখে সেবামূল্য কমানোর কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে।
ডেটার মূল্যের ক্ষেত্রেও প্রচলিত বয়ান বদলানো জরুরি। প্রতি গিগাবাইট ডেটার গড় মূল্য কাগজে-কলমে কম হলেই তা একজন দিনমজুর বা নিম্নবিত্তের জন্য সাশ্রয়ী হয়ে যায় না। স্বল্প আয়ের মানুষকে দৈনিক আয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ছোট প্যাক কিনতে হয়, যার কার্যকর মূল্য অনেক বেশি। তার ওপর মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে অব্যবহৃত ডেটা বাজেয়াপ্ত হলে সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষতি বাড়ে। ডিভাইস কেনা, মেরামত এবং বিদ্যুৎ খরচের সার্বিক বোঝা বিবেচনায় নিয়েই ইন্টারনেটের প্রকৃত সাশ্রয়ী সক্ষমতা পরিমাপ করা উচিত।
সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোতেও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কতটি টাওয়ার নির্মিত হলো, তার চেয়েও বড় বিষয়—প্রকল্প শেষে সেবাটি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অপারেশনাল ব্যয় কে বহন করছে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারণ মানুষ তা থেকে কী সুফল পাচ্ছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (SOF) ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ও স্বাধীন নিরীক্ষা থাকা আবশ্যক।
ডিজিটাল সাক্ষরতা কার্যক্রমকেও বাস্তবমুখী হতে হবে। গতানুগতিক সনদ বিতরণের চেয়ে একজন কৃষক যেন অনলাইনে সারের সঠিক তথ্য ও বাজারদর যাচাই করতে পারেন, একজন নারী উদ্যোক্তা যেন নিরাপদে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারেন এবং সাধারণ তরুণ যেন সাইবার জালিয়াতি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন—সেই প্রায়োগিক দক্ষতাই মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত।
পরিবারে একটি স্মার্টফোন থাকলেই সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের স্বাধীনতা অত্যন্ত সীমিত। তদুপরি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বুলিং ও সাইবার সহিংসতার শিকার হলে নিরাপত্তাহীনতায় অনেক নারী ইন্টারনেট ব্যবহারই বন্ধ করে দেন। ফলে ভুক্তভোগী-বান্ধব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তার নিশ্চয়তা না থাকলে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে গ্রামীণ কমিউনিটি রেডিও ও স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সচেতনতা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।
দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রকৃত সক্ষমতা পরীক্ষা হয় ঝড়, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের সময়। স্বাভাবিক সময়ে নেটওয়ার্ক থাকা কোনো বড় বিষয় নয়; জরুরি দুর্যোগকালে পাওয়ার গ্রিড বন্ধ হয়ে গেলেও বিকল্প ব্যাটারি ও ব্যাকআপের মাধ্যমে টাওয়ারগুলো সচল থাকছে কি না, তা মহড়া দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।
একই সাথে জাতীয় নিরাপত্তা বা প্রশাসনিক অজুহাতে নির্বিচারে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধের অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল সংযোগ মৌলিক নাগরিক অধিকারের সমতুল্য। পড়াশোনা, ব্যবসা, চিকিৎসা ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের যে মাধ্যমটির ওপর কোটি কোটি মানুষ নির্ভরশীল, তা নিরবচ্ছিন্ন রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্র ও অপারেটর উভয়েরই রয়েছে।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসডিজি ডেটার অসঙ্গতি দূর করা, ইউনিয়নভিত্তিক রিয়েল-টাইম কভারেজ ও কোয়ালিটি ম্যাপ উন্মুক্ত করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী ডেটা কাঠামোর রোডম্যাপ ঘোষণা করা সম্ভব। কেবল মোবাইল সিগন্যালের ভৌগোলিক বিস্তারে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে, দেশের প্রতিটি নাগরিক ডিজিটাল সুযোগকে নিজের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে রূপান্তর করতে পারছেন কি না—সেটিই হোক এসডিজি ৯.সি অর্জনের মূল মানদণ্ড।
লেখক | প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি); বাংলাদেশে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Responsible AI) ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)-বিষয়ক আন্তর্জাতিক অ্যাম্বাসেডর।
[সম্পাদকীয় নোট]
ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে কোনো দেশের নেটওয়ার্ক সিগন্যালের বিস্তৃতি আর সাধারণ নাগরিকের কার্যকর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মধ্যকার ব্যবধান উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। লেখক প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (SDG 9.c) কাঠামোর সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে প্রায় শতভাগ ফোরজি কভারেজের আড়ালে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখনও ইন্টারনেটের ব্যবহারিক সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। ডিভাইস কেনার অসমর্থতা, ডেটা প্যাকের মেয়াদের ফাঁদ, ঘরের ভেতরে নেটওয়ার্কের দুর্বলতা এবং জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্যকে দূর না করে কেবল টাওয়ারের সংখ্যা বাড়িয়ে টেকসই ডিজিটাল সমাজ গড়া সম্ভব নয়। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ডিজিটাল ক্ষমতায়নের তাগিদে নিবন্ধটি সম্পাদকীয় প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।





