৫ দাবিতে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের সংবাদ সম্মেলন
প্যাথলজি রিপোর্ট স্বাক্ষরের অধিকার পুনর্বহাল ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কম্পিটেন্সি-বেজড পলিসি প্রণয়নসহ ৫ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টস (বিক্যাব)। বাকি ৩ দাবির মধ্যে রয়েছে নতুন করে জারি করা নির্দেশনার ৫ নম্বর ইস্যু অবিলম্বে বাতিল অথবা সংশোধন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবনায় অ্যালাইড হেলথ কাউন্সিল এর সাথে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের কাউন্সিল গঠন এবং পেশাগত বৈষম্য পরিহার করে রোগী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যখাতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া।
২১ জানুয়ারি, বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি বেশ করা হয়। সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হোসাইন উদ্দিন শেখর। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সোহেল আহমেদ এবং ও প্রফেসর ড. ইয়ারুল কবির
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি হেলথের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) কর্তৃক গত ৫ জানুয়ারি তারিখে জারিকৃত প্যাথলজি ল্যাব সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে- ‘রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকগণকে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্রাজুয়েট হতে হবে।’ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট (BACB) গভীর উদ্বেগের সাথে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
তারা বলেন, এই নির্দেশনাটি বৈষম্যমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ল্যাবরেটরি বাস্তবতার পরিপন্থি। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরিগুলোতে হিস্টোপ্যাথলোজিস্ট, হেমাটোলোজিস্ট, মাইক্রোবায়োলোজিস্ট, ক্লিনিক্যাল প্যাথলোজিস্ট এবং মেডিক্যাল/ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট- গণ তাঁদের নিজ নিজ বিশেষজ্ঞক্ষেত্র অনুযায়ী পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন। এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় চর্চা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত মানদণ্ড।
তারা আরও বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি বায়োকেমিস্ট ও ল্যাব বিশেষজ্ঞরা রিপোর্টে স্বাক্ষর করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু উক্ত নির্দেশনার মাধ্যমে এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কার্যত অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে-যা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও পেশাগত মর্যাদাহানিকর।
ডিবিটেক/জেএনএন/ ইকে







