প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববাজার ধরতে যৌথ কৌশলের তাগিদ
জিসিসির শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সমন্বিত উদ্যোগ
- জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ লাখ দক্ষ পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে
- বাজার-ভিত্তিক চাহিদানুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নের উদ্যোগ
- অদক্ষ শ্রমিক প্রেরণের প্রবণতা রোধে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ও তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি চালুর
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর আধুনিক প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সরকারের যৌথ সমন্বয় অপরিহার্য। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ–জিসিসি ওয়ার্কফোর্স অ্যান্ড ইকোনমিক আউটলুক: হিউম্যান ক্যাপিটাল অপরচুনিটিজ, মার্কেট প্রসপেক্টস অ্যান্ড দ্য রোডম্যাপ ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সংশ্লিষ্টরা এ অভিমত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে জিসিসি দেশগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস ও স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এই বাজার ধরতে পারবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সফট স্কিল এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী পাঠ্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শুধু শ্রমিক রফতানি নয়, বরং পেশাদার প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক উৎস হিসেবে দেশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে টিকে থাকতে হলে অদক্ষ জনশক্তি রফতানির ধারা পরিবর্তন করে 'ডিমান্ড-ড্রাইভেন সাপ্লাই চেইন' বা চাহিদাভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিদেশের প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের চাহিদা পর্যালোচনা করে দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে বাস্তবমুখী কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অভিবাসনের ক্ষেত্রে ভাষাগত জটিলতা নিরসনে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (টিভিইটি) জাপানি ও কোরীয়সহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (এনএসডিএ) সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতেমা ১০ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ও গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তথ্যে দাবি করা হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের ৮১ দশমিক ৬ শতাংশই অদক্ষ। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে জিসিসি অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল নির্মাণ, লজিস্টিকস ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ২৫ লাখ দক্ষ কর্মীর বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে।
//ডিবিটেক/বিটিও/ এনএপি/এসএমই//





