কমেছে বিদ্যুৎ ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ
সৌরবাতিতে ডিএনসিসি’র সাশ্রয় ৯৭ লাখ টাকা
- উত্তরার তিন সড়কে সৌরবাতি ব্যবহার করে সাড়ে আট লাখ ইউনিট গ্রিড বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে
- আট বছরে আনুমানিক ৯৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হয়েছে
- উত্তরা ও ভাষানটেকের অভিজ্ঞতায় ঢাকার আরও সড়কে সৌরবাতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে ডিএনসিসি
দিনের সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে, আর সেই বিদ্যুতেই রাতে আলোকিত থাকছে রাজধানীর উত্তরার কয়েকটি সড়ক। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হিসাব অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি ব্যবহারে আট বছরে প্রায় সাড়ে আট লাখ ইউনিট গ্রিড বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছে। এর আনুমানিক আর্থিক মূল্য ৯৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। একই সময়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমেছে প্রায় ৫২৭ টন।
উত্তরার তিনটি সড়কে সৌরবাতি ব্যবহারের অভিজ্ঞতার পর ভাষানটেকেও এ ব্যবস্থা চালু করেছে ডিএনসিসি। এখন রাজধানীর আরও সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
উত্তরার তিন সড়কে ২৬০ সৌরবাতি
ডিএনসিসির নথি অনুযায়ী, উত্তরার শাহজালাল অ্যাভিনিউ, গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ ও গাউসুল আজম অ্যাভিনিউতে ১৩০টি খুঁটিতে মোট ২৬০টি সৌর সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বাতির ক্ষমতা ৯০ ওয়াট। প্রতিটি বাতির জন্য রয়েছে ২৫০ ওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল।
সব মিলিয়ে স্থাপিত সৌর প্যানেলগুলোর ক্ষমতা ৬৫ কিলোওয়াট।
২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের হিসাব ধরে ডিএনসিসি জানিয়েছে, বাতিগুলো প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা জ্বলে বলে বিবেচনা করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রায় সাড়ে আট লাখ ইউনিট গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার সাশ্রয় হয়েছে। একই সময়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমেছে আনুমানিক ৫২৭ টন।
আরও সড়কে সৌরবাতি স্থাপনের পরিকল্পনা
ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেসব সড়কে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায়, সেখানে সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি স্থাপন করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। উত্তরার তিনটি সড়কে সাফল্যের পর ভাষানটেকেও এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজধানীর আরও সড়কে সৌরবাতি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকার ধুলাবালি সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ। তবে নিয়মিত পরিষ্কার ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এ প্রযুক্তির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরবাতির ব্যবহার বাড়লে প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ কমানো এবং তুলনামূলক কম খরচে পরিবেশবান্ধব নগর অবকাঠামো গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সড়কে আলো, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরার উল্লেখিত তিনটি সড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতির আলো সাধারণ সড়কবাতি বা এলইডি বাতির তুলনায় কম নয়। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়—এমন সড়কে পরিকল্পিতভাবে সৌরবাতি স্থাপন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করা গেলে ঢাকার আরও বিস্তৃত এলাকায় এ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব।
উত্তরায় সাফল্যের পর চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ভাষানটেক বস্তিতে ৪৫০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত এলইডি সড়কবাতি উদ্বোধন করে ডিএনসিসি। সরু রাস্তা ও গলিতে রাতে চলাচল সহজ করা এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বাড়ানো এ উদ্যোগের লক্ষ্য। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এর মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও কাছাকাছি সময়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতির প্রকল্প নিয়েছিল। তবে পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যার ঘাটতির কারণে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ডিএনসিসির অভিজ্ঞতা বলছে, উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি নগরসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এতে রাতের সড়ক আলোকিত রাখার পাশাপাশি গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
//ডিবিটেক/ডিএনসিসিপিআর/এসএমই/এফওইডি//





