প্রথম ইউনিটের উৎপাদনেই অগ্রাধিকার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রথম ইউনিটের উৎপাদনেই অগ্রাধিকার
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে আগামী বছরের জুনের দিকে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে চলছে। প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হলে দ্বিতীয় ইউনিটকে উৎপাদনের পর্যায়ে নেওয়ার কাজ আরও জোরদার করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ইউনিটের অবকাঠামোগত ও কারিগরি প্রস্তুতি আগামী বছরের শুরুর দিকে শেষ করে সেটিকে জ্বালানি লোডিংয়ের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি লোডিং শুরু করা নির্ভর করবে অবশিষ্ট কাজ শেষ হওয়া এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমোদন পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার এ ধাপকে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এ পর্যায়ের পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরুর আগে আরও কয়েকটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন প্রস্তুতিতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রথম ইউনিটের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতি বন্ধ নেই। ইউনিটটির অবকাঠামোগত কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও কারিগরি প্রস্তুতি শেষ করা হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝি ইউরেনিয়াম লোডিং শুরুর লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে জ্বালানি লোডিং শুরু করা হবে। সূত্রগুলোর প্রত্যাশা, আগামী বছরের জুনের দিকে দ্বিতীয় ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। জ্বালানি লোডিংয়ের পর চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।
দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি গত ২ অক্টোবর থেকে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সরবরাহ চলবে।
রোসাটম-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহনে সাতটি কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিটের পুনরায় জ্বালানি ভরার জন্য ব্যবহার করা হবে আরও দুটি কার্গো উড়োজাহাজ। সব মিলিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে মোট নয়টি কার্গো উড়োজাহাজ ব্যবহারের কথা রয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয়—দুই ইউনিটেই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের প্রথম প্রকল্প হিসেবে রূপপুরে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহ করা এ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সাত হাজারের বেশি পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা মিলবে।
রোসাটম জানায়, ওআইএসএস ব্যবস্থাটি বিদ্যুৎ ইউনিটের ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরএএসইউ তৈরি করেছে। প্রথম ইউনিটে সিস্টেমটি ইতোমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং স্টার্ট-আপ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
দ্বিতীয় ইউনিটের এসব কাজ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। জ্বালানি লোডিং ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো একে একে সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তারা এখন যত দ্রুত সম্ভব প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু করার চেষ্টা করছেন। তবে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও যথাযথভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হলে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রাশিয়ার প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম।
কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। পূর্ণ সক্ষমতায় দুটি ইউনিট থেকে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ভর করছে অবকাঠামোগত কাজ, কারিগরি প্রস্তুতি এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার ওপর। জ্বালানি লোডিংয়ের পর চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ও গ্রিডে সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য থাকলেও তা নির্ধারিত ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সাপেক্ষে বাস্তবায়িত হবে।
//ডিবিটেক/বিএনএনআর/এসএমই/এফওইডি//
মুহাম্মদ মুস্তফা হুসাইন ১০ অক্টোবর, ২০২৬
সোহেল মৃধা ৫ অক্টোবর, ২০২৬
এ এইচ এম বজলুর রহমান ৪ অক্টোবর, ২০২৬
মোঃ হাসিবুর রশিদ ৩ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
Oct 8, 2026
Sep 24, 2026
১৯ অক্টোবর, ২০২৬
১৯ অক্টোবর, ২০২৬
১৯ অক্টোবর, ২০২৬
১৮ অক্টোবর, ২০২৬
Total Vote: 44
হ্যা
Total Vote: 57
আশীর্বাদ

