চার মাসে দ্বিগুণ ট্রাফিকের চাপে গিটহাব

চার মাসে দ্বিগুণ ট্রাফিকের চাপে গিটহাব
২২ আগষ্ট, ২০২৬ ২০:০৬  

বিশ্বখ্যাত সফটওয়্যার ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম গিটহাবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দীর্ঘ সময় সেবা ব্যাহত হওয়ার নেপথ্যে সার্ভারের ধারণক্ষমতার ঘাটতিকে দায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ। 

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কোনো সাংকেতিক বার্তা বা কনফিগারেশনের পরিবর্তনের কারণে নয়, বরং আকস্মিক ট্রাফিকের অভূতপূর্ব চাপের কারণেই গত সোমবারে প্রায় সাত ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের সেবা বন্ধ ছিল। 

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারের মূল পরিকাঠামো অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাপ খাইয়ে নিতে না পারায় এই নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।

বিপর্যয়ের নেপথ্যে এআই কোডের জোয়ার
গিটহাবের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এপ্রিল থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র চার মাসে প্ল্যাটফর্মটিতে 'কমিট' বা কোড ফাইল পরিবর্তনের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এপ্রিলে যেখানে মাসিক কমিটের সংখ্যা ছিল ১৪০ কোটি, চার মাসের ব্যবধানে তা লাফিয়ে দাঁড়ায় ২৯০ কোটিতে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে প্রোগ্রামিং কোড তৈরির হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে এই ট্রাফিকের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এআই কোডিং টুলের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ায় গিটহাবের ওপর এই প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। 

পরিকাঠামো সংস্কার ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
গিটহাব কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াটা তাদের ব্যবস্থার ওপর তৈরি হওয়া চাপকে ব্যাখ্যা করে, তবে এটি সেবা বন্ধ থাকার অজুহাত হতে পারে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের নেটওয়ার্ক বিভ্রাট ঠেকাতে গিটহাব তাদের সার্ভারের প্রসেসিং ক্ষমতা ও মেমরি সতর্কবার্তাগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি একাধিক সার্ভারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সময় নেটওয়ার্কের ওপর একসংগে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে পুনরায় চেষ্টার নির্দিষ্ট সীমা এবং সময়সীমা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

তা সত্ত্বেও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কারিগরি পদক্ষেপগুলো গিটহাবের দীর্ঘমেয়াদি চাপ পুরোপুরি দূর করতে পারবে না। কারণ, আধুনিক সফটওয়্যার তৈরির কাজে এআই প্রযুক্তির ওপর মানুষের নির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে পেশাদার ও শখের কোডারদের মূল আশ্রয়স্থল হিসেবে গিটহাবকে আগামী দিনেও প্রতিনিয়ত এই প্রযুক্তির পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে চলতে হবে। 

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: এনগ্যাজেট