গ্রামে সেবামান বাড়াতে রবির প্রতি আহ্বান মন্ত্রীর
• সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের সুফল সাধারণ গ্রাহকদের দেওয়ার তাগিদ
• কলড্রপের ক্ষতিপূরণ ও ডাটা প্যাকেজ নিয়ে সচেতনতার নির্দেশ
• মালয়েশিয়ার আজিয়াটা গ্রুপ থেকে আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা সরকারের
টেলিকম অবকাঠামো উন্নয়ন ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও আধুনিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট অফিসে আয়োজিত ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন বিষয়ক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে রবির চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামে আহমেদ মেতাওয়েহ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, জনগণের সন্তুষ্টি ও কল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং টেলিকম খাতের যাবতীয় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ অবগত। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপের সুফল যেন শুধু অপারেটরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে সরাসরি পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকার সফল আধুনিকায়ন ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয় এবং ভবিষ্যতে দেশের সব প্রান্তের গ্রাহকরা এমন সুবিধা পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে বৈদেশিক বিনিয়োগকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক আরও নিবিড় করার চেষ্টা চলছে। রবি’র মূল প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াভিত্তিক Axiata Group হওয়ায় তাদের কাছ থেকে সরকার আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে। রবি ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের মান বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী সেবা দেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মেগাসিটির পাশাপাশি নদী তীরবর্তী, পার্বত্য অঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে রবির সেবা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামাঞ্চল থেকে আসা কলে রবির উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা যায়। শহরে রাজস্ব ও গ্রাহক বেশি হলেও গ্রামের মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। টাওয়ার শেয়ারিং ব্যবস্থা কার্যকর থাকায় দুর্গম এলাকায় রবি সহজেই সেবা সম্প্রসারণ করতে পারে।
টেলিকম গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কলড্রপ কেন হয় এবং কলড্রপ হলে যে টাকা কাটা হয় না বরং ক্ষতিপূরণ ফেরত দেওয়া হয়—তা গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। ৫০০ টাকার প্যাকেজ কিনে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সুবিধা বাতিল হওয়া সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করতে প্রচার চালানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রবিসহ গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও টেলিটকেরও এই বিষয়ে সক্রিয় হওয়া উচিত। যেকোনো সমস্যা বা উদ্ভাবনী ভাবনায় সরকার ও বিটিআরসি সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
//ডিবিটেক/এফএএস/এমআইএস//





