তথ্য নিরাপত্তা ও এআই অপতথ্য রুখতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

  • ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান।
  • অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকের বেশি মিথ্যা ও পঞ্চমাংশে এআই কারসাজির তথ্য প্রকাশ।
  • নৈতিক সাংবাদিকতা এবং ফ্যাক্ট-চেকিং জোরদারের তাগিদ দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদকের।

তথ্য নিরাপত্তা ও এআই অপতথ্য রুখতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
১৮ আগষ্ট, ২০২৬ ১৭:২৬  

বাংলাদেশে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সামাজিক সংহতি জোরদার করতে এআই-নির্ভর অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় ‘Information Integrity and Social Cohesion in Bangladesh: Policy, Platform Accountability and Collective Action’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ আহ্বান জানান।

ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও অংশীদারদের উদ্যোগে এবং জার্মান সরকারের সহযোগিতায় নীতি সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে একটি আস্থাভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা শুধু অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জনআস্থা, সামাজিক সংহতি এবং নাগরিকদের অর্থবহ অংশগ্রহণও সরাসরি সম্পর্কিত। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং প্রচলিত ও ডিজিটাল উভয় মাধ্যমে মানসম্মত কনটেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট সমাজে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের ওপর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আস্থাভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, “দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এ সময়ে সুশাসন ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে তথ্য যাচাই, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভুলতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আরও বিস্তৃত করেছে, একই সঙ্গে অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করার দায়িত্ব সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্য ডেইলি স্টার নৈতিক সাংবাদিকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তথ্য যাচাই ও ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।”

নীতি সংলাপে উপস্থাপিত ইউএনডিপি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে আসে যে, পর্যালোচনা করা অনলাইন কনটেন্টের অর্ধেকেরও বেশি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর এবং এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি কনটেন্টে এআই-নির্ভর কারসাজির উপস্থিতি রয়েছে। সংলাপে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ), বিটিআরসি, বাংলাদেশ পুলিশ, ইউনেস্কো, ইউএনএফপিএ ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।     //ডিবিটেক/জেইউপি/এসএমই//