কেনো স্মার্টফোনে ফিরছে রিমুভেবল ব্যাটারি?

কেনো স্মার্টফোনে ফিরছে রিমুভেবল ব্যাটারি?
১১ আগষ্ট, ২০২৬ ১৩:৫৫  

একসময় স্মার্টফোনের পেছনের কাভার খুলে নখ দিয়েই ব্যাটারি বদলে ফেলা ছিল খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে সময়ের পরিক্রমায় স্লিম ও প্রিমিয়াম ডিজাইনের জনপ্রিয়তা বাড়ায় ধীরে ধীরে এই সুবিধাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বেশিরভাগ আধুনিক ফোনেই ব্যাটারি স্থায়ীভাবে ভেতরের যন্ত্রাংশের সঙ্গে আটকে দেওয়া হয়। তবে নতুন আইন ও পরিবেশ সচেতনতার কারণে এই পুরনো ফিচারটি আবারও নতুন রূপ নিয়ে ফিরে আসছে।

কেন বন্ধ হয়েছিল রিমুভেবল ব্যাটারি
ব্যবহারকারীদের স্লিম বা পাতলা ফোনের প্রতি আকর্ষণ এবং প্রিমিয়াম মেটাল ও কাচের বডি ব্যবহারের কারণেই মূলত পপ-আপ ব্যাটারির ব্যবহার কমে যায়। প্লাস্টিকের কাভার ছাড়া কাচের কাভার বার বার খোলা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া পানি ও ধুলোবালি থেকে ডিভাইসকে সুরক্ষিত রাখতে (আইপি৬৮ রেটিং) বেশিরভাগ ব্র্যান্ড ফোনকে সম্পূর্ণ সিলগালা করে তৈরির পথ বেছে নেয়। এর পাশাপাশি, ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ না থাকলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে দ্রুত নতুন ফোন কেনেন, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসার জন্য লাভজনক ছিল। তবে বর্তমানে কিছু বিশেষ প্রতিরোধী ফোন এবং পরিবেশবান্ধব ডিভাইসে এখনও ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন কড়াকড়ি
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক নতুন আইনের কারণে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের বাজারে বিক্রি হওয়া সব স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে সাধারণ ব্যবহারকারীর মাধ্যমে সহজে পরিবর্তনযোগ্য ব্যাটারি থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ই-বর্জ্য কমানো, মূল্যবান খনিজ পুনর্ব্যবহার এবং ডিভাইসের স্থায়িত্ব বাড়ানোই এই নতুন নিয়মের মূল উদ্দেশ্য। টাইপ-সি পোর্টের মতোই আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য বিশ্বজুড়ে সব ফোনেই এই নকশা ফিরিয়ে আনতে পারে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। 

ডিজাইনে কতটা পরিবর্তন আসবে
আইন অনুযায়ী 'সহজে পরিবর্তনযোগ্য' বলতে বোঝানো হয়েছে, সাধারণ স্ক্রু ড্রাইভারের মতো দৈনন্দিন যন্ত্রাংশ দিয়েই যেন ব্যাটারি খোলা যায়। আঠা গলানোর জন্য কোনো তাপ বা বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন রাখা যাবে না। তবে ফ্ল্যাগশিপ বা দামি ফোনগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাটারির স্থায়িত্ব বেশি হলে এবং উন্নত ওয়াটারপ্রুফ সুবিধা থাকলে পেশাদার মেরামতকারীদের দিয়ে ব্যাটারি পরিবর্তনের বিশেষ ছাড় পেতে পারে ব্র্যান্ডগুলো। 

ফলে আগামী বছরগুলোতে সব ফোনের পেছনের কাভার হুট করে খোলার মতো না হলেও, ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক সহজ হতে যাচ্ছে। 

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: জিএসএম এরিনা