হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও গণিত শেখাতে ম্যাথ ল্যাব ও ইউনিফর্ম উদ্যোগ

প্রাথমিক কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’

  • প্রাথমিকে সায়েন্স টয় ও ম্যাথ ল্যাব চালু হবে
  • ১৬ আগস্ট বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু
  • ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূরীকরণে জোর

প্রাথমিক কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’
৯ আগষ্ট, ২০২৬ ১২:৪৭  

ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ ও হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিশুরা যাতে শুধু বই পড়ে নয়, বরং খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখতে পারে—এই লক্ষ্যেই পরিকল্পনাটি নেওয়া হয়েছে। ৯ আগস্ট, রবিবার ঢাকার বনানীতে হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার (FLAT)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মৌলিক ধারণা স্পষ্ট করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সরঞ্জামের মাধ্যমে আকার, আকৃতি, যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মতো বিষয়গুলো আনন্দময় পরিবেশে শেখানো হবে। একই সঙ্গে তিনি ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং’-এর ঘাটতি দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মূল পড়াশোনা ও গণিতের ভিত্তি শক্ত না হলে উচ্চতর শ্রেণিতে সমস্যা তৈরি হয়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা চাই শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না, বরং হাতে-কলমে কাজ করে, খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকের কারিকুলামে সায়েন্স টয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

‘প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন ও সৃজনশীলতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে কারিকুলামের ভেতরে ‘সায়েন্স টয়’ ও হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণা শিখবে’- যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’দের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। মিড-ডে মিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্পের সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে কার্যকর সমাধানের মাধ্যমে তা পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি প্রকল্পকে শুধু দর্শননির্ভর না রেখে শক্ত পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও অপারেশনাল কাঠামোর আওতায় আনার প্রত্যয় প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/ এমটিএম/এসএমই//