ডিপ-টেকে আশা জাগিয়ে শেষ জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিট
বাংলাদেশের ডিপ-টেক ভবিষ্যৎ' প্রতিপাদ্যে দ্বিতীয় ও শেষ দিনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিএসআইএ সামিট ২০২৬। সমাপনী দিনে সরকার, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং প্রবাসী প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভবিষ্যৎ, গবেষণা, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবন নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সমাপনী দিনের সূচনা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশকে ডিপ-টেক ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে আঞ্চলিক সক্ষমতাসম্পন্ন দেশে পরিণত করতে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর অনুষ্ঠিত গ্লোবাল একাডেমিক প্লেনারিতে পার্ডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিস বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রবণতা, গবেষণা সহযোগিতা এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী চারটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, গবেষণা থেকে শিল্পে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বৈশ্বিক প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান বিনিময় এবং ডিপ-টেক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা ও উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাতের সহযোগিতা এবং নীতিগত সহায়তা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির জন্য স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিকেলে অনুষ্ঠিত ক্রেস্ট ফেলো প্রোগ্রামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গবেষকরা সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা উপস্থাপন করেন। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
সমাপনী প্লেনারিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এম. আনোয়ার হোসেন দেশের বিজ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়ন, জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে সমাপনী অনুষ্ঠানে পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তফা হোসেইন, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার, বুয়েটের অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. হারুন-উর-রশিদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এম. আনোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে শেষ হয় সম্মেলন।
আয়োজকদের মতে, দুই দিনের এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী, দেশি-বিদেশি গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন। সম্মেলনে উপস্থাপিত সুপারিশ ও রোডম্যাপ আগামী বছরগুলোতে দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, ডিপ-টেক বিনিয়োগ, গবেষণা এবং একাডেমিক সহযোগিতার দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
//ডিবিটেক/এসআই/এমআই//





