“নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান—টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি” প্রতিপাদ্যে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত

বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঘোষণা অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর

  • আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
  • কোনো অবস্থাতেই তথ্যের বিকৃতি হতে দেওয়া হবে না এবং ডেটা গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি
  • জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুশাসন, ডাটা ইন্টিগ্রিটি ও ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা

বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ঘোষণা অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর
৮ নভেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪২  

“নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান—টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোঃ ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে। পরিসংখ্যানের নিরপেক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে নির্ভরযোগ্য ও বিকৃতিমুক্ত তথ্যের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, পরিসংখ্যানের তথ্য হতে হবে স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য, যাতে জনগণ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা এসব তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারেন। সরকারি তথ্যে কারসাজি করা হলে তা সরকারের নিজের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তথ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু বলেন, সরকার যত বেশি তথ্য উন্মুক্ত করবে, তত বেশি মানুষের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পাবে। এতে ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং নীতিনির্ধারণে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা সহজ হবে। গবেষক ও সাধারণ মানুষ যাতে সহজে পরিসংখ্যান ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, তথ্য শুধু সরকারের সম্পদ নয়; গবেষক, নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য তা ব্যবহারের সুযোগ থাকতে হবে। নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ বাস্তবায়নেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন হবে। একই সাথে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, সংস্থাটির জনবলসংকট ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে সরকার অবগত এবং এসব সমাধানে ইতোমধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ও সামনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, মানসম্পন্ন ও বিজ্ঞানসম্মত পরিসংখ্যান, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ জননীতি প্রতিষ্ঠা করে পরিসংখ্যানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, কোনো অবস্থাতেই তথ্যের বিকৃতি হতে দেওয়া হবে না এবং সরকার জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ ও সহজলভ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানের সভাপতিসহ অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার সমষ্টি নয়; বরং রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান স্তম্ভ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিবিএসের কর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

//ডিবিটেক/পিজেইউ/এসএমই/এমএসআই//