এভারেট কারখানায় বোয়িংয়ের নতুন ৭৩৭ অ্যাসেম্বলি লাইন চালু
বিশ্বজুড়ে যাত্রীবাহী বিমানের রেকর্ড চাহিদার সাথে তাল মেলাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং সোমবার থেকে ওয়াশিংটনের এভারেট কারখানায় তাদের চতুর্থ ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ অ্যাসেম্বলি লাইনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
বোয়িংয়ের অভ্যন্তরে ‘নর্থ লাইন’ নামে পরিচিত এই নতুন প্রোডাকশন লাইনটি মূলত একক-আইল (সিঙ্গেল-আইল) বা মাঝারি আকারের যাত্রীবাহী বিমানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি বড় অংশ।
গত জুনে বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী (সিইও) কেলি ওর্টবার্গ ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কোম্পানি ৬ জুলাই এভারেট লাইনে তাদের প্রথম বিমানের কাঠামো বা যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর (লোড) কাজ শুরু করবে। তিনি এই নতুন লাইনটিকে সিয়াটলের দক্ষিণে অবস্থিত বোয়িংয়ের রেন্টন প্ল্যান্টে থাকা বিদ্যমান তিনটি ৭৩৭ অ্যাসেম্বলি লাইনের একটি হুবহু প্রতিরূপ বা ‘কপি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বর্তমানে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাথে পরামর্শ করে বোয়িং তাদের ৭৩৭ বিমানের মাসিক উৎপাদন ৪২টি থেকে বাড়িয়ে ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তবে নতুন এই নর্থ লাইনটি ২০২৭ সালের শুরুর আগে সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরাসরি কোনো অবদান রাখবে না। বোয়িংয়ের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ৭৩৭ বিমানের উৎপাদন প্রতি মাসে ৫২টিতে নিয়ে যাওয়া। এছাড়া ভবিষ্যতে এই উৎপাদন হার প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৭০টি বিমানে উন্নীত করার বিষয়টিও পর্যালোচনা করছে কোম্পানিটি।
বিগত কয়েক বছর ধরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, নিরাপত্তা সংকট এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের সাথে টানাপোড়েনের কারণে বোয়িং যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এই ৭৩৭ বিমানের উৎপাদন বাড়ানো তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের একটি প্রায় নতুন ‘৭৩৭ ম্যাক্স ৯’ বিমানের মাঝআকাশে দরজার প্লাগ (ডোর প্লাগ) খুলে যাওয়ার ঘটনার পর এফএএ বোয়িংয়ের ৭৩৭ উৎপাদনের ওপর কঠোর সীমা আরোপ করেছিল। সেই দুর্ঘটনার পর বোয়িংয়ের উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং গুণগত ত্রুটি সংশোধনের জন্য কোম্পানিকে বিমানের উৎপাদন গতি সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে হয়েছিল।
ভলিউম বা আয়তনের দিক থেকে বোয়িংয়ের এই এভারেট প্ল্যান্টটি বিশ্বের বৃহত্তম ভবন বা কারখানা। একসময় এই বিশাল ভবনে বোয়িংয়ের বিখ্যাত ৭৪৭, ৭৬৭, ৭৭৭ এবং ৭৮৭ মডেলের বিমান তৈরি হতো। তবে ঐতিহাসিক ৭৪৭ বিমানের উৎপাদন চিরতরে বন্ধ হওয়া এবং ৭৮৭ বিমানের অ্যাসেম্বলি লাইন সাউথ ক্যারোলিনায় স্থানান্তরিত করার পর এই কারখানায় বিশাল খালি জায়গা তৈরি হয়েছিল, যা এখন ৭৩৭ ম্যাক্স তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক বিমানের বাজারে বোয়িংয়ের এই ৭৩৭ ম্যাক্স মূলত ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের ‘এ৩২০নিও’ সিরিজের বিমানগুলোর সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা করে থাকে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই ক্যাটাগরির বিমানের এতটাই চাহিদা যে, নতুন বিমানের জন্য বিমানসংস্থাগুলোকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





