ডিজিটাল রূপান্তর, দাবি নিষ্পত্তি ও ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে আইডিআরএর নতুন উদ্যোগ
রিয়েলটাইম তদারকিতে যাচ্ছে দেশের জীবন বিমা খাত
জীবন বিমা খাতে জনআস্থা পুনরুদ্ধার, দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি জোরদারে নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে আইডিআরএ। রিয়েলটাইম তথ্যভিত্তিক নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দেশের জীবন বিমা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি এবং আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খাতের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সভায় বিমা দাবি নিষ্পত্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, নতুন বিমা পণ্য উন্নয়ন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো সংস্কার নিয়ে মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, কিছু প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব পুরো খাতের প্রতি গ্রাহকের আস্থাকে প্রভাবিত করছে। আর্থিক চাপে থাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এ প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের পক্ষ থেকে বিশেষ সহায়তা কাঠামো নিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানান, সংকট নিরসনে এককালীন সহায়তার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহির নিশ্চয়তার প্রয়োজন হবে।
সভায় জনআস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য সময়মতো দাবি পরিশোধ, সুশাসন এবং ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে জবাবদিহি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে আইডিআরএ রিয়েলটাইম তথ্যভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা জানিয়েছে। এর আওতায় তথ্য সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নিরাপদ কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমা পলিসির ল্যাপস হার কমানো, কমিশন কাঠামো পর্যালোচনা, অ্যাকচুয়ারিয়াল সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং তাকাফুলসহ নতুন ধরনের বিমা পণ্য চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
আইডিআরএ জানিয়েছে, প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক মডেল থেকে ধাপে ধাপে রিস্ক–বেইজড সুপারভিশন (আরবিএস) কাঠামোয় রূপান্তর করা হবে। এতে রিয়েলটাইম তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তদারকি আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহে পৃথকভাবে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে খাতভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনা মূল্যায়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
//ডিবিটেক/বিটি/এমইউআইএম//





