এআইয়ের প্রভাবে ওরাকল থেকে ২১,০০০ কর্মী ছাঁটাই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে টেক জায়ান্ট ওরাকল তাদের বিশাল কর্মী বহর থেকে প্রায় ২১,০০০ কর্মী কমিয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং খাতের এই শীর্ষ কোম্পানিটির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৬ অর্থবছরে তারা তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৩ শতাংশ ছাঁটাই করেছে।
সোমবার (২২ জুন) প্রকাশিত ওডিটের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ওরাকলের মোট কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার।
ছাঁটাইয়ের ব্যয় ও কারণ
কর্মী ছাঁটাই এবং এই সংক্রান্ত অন্যান্য বিদায়ী খরচ বা সেভারেন্স পেমেন্ট বাবদ ওরাকল এই অর্থবছরে রেকর্ড ১.৮৪ বিলিয়ন (১৮৪ কোটি) মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে। এর আগের অর্থবছরে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৩৭৪ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবস্থাপনা ও পণ্যের পরিবর্তন, কর্মীদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন, কৌশলগত পরিবর্তন এবং নতুন কোম্পানি অধিগ্রহণের পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ফলেই এই কর্মী সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলেও ওরাকলের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এআই এবং প্রযুক্তি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি
প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে চাকরি হারানোর যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ওরাকলের এই ঘটনা যেন তারই বাস্তব প্রতিফলন। চিপ ও কর্মী ছাঁটাই ট্র্যাকিংকারী ওয়েবসাইট ‘Layoffs.fyi’-এর তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই বিশ্বব্যাপী ১৯৬টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৮০০-এরও বেশি কর্মী ছাঁটাই করেছে।
তীব্র প্রতিযোগিতা ও ঋণের বোঝা
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বাজারে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ প্রতিদ্বন্দীদের সাথে টেক্কা দিতে ওরাকল সম্প্রতি ওপেনএআই এবং মেটার সাথে বিশাল ডেটা সেন্টার চুক্তি করেছে। তবে অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টদের মতো ওরাকলের নিজস্ব নগদ অর্থের পর্যাপ্ত প্রবাহ না থাকায়, এই বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে তাদের নিজেদের নগদ তহবিল ভাঙতে হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে। এর ফলে চলতি বছরে পুঁজিবাজারে ওরাকলের শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ পড়ে গেছে।
চলতি অর্থবছরে ওরাকল প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বা মূলধনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই বিশাল খরচের জোগান দিতে কোম্পানিটি বাজার থেকে বন্ড বা শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে আরও ৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা ২০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স





