ভূমিকম্পে বুয়েটের আবাসিক ভবনের ছাদের অংশ ধস, আহত ১

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার একটি পুরোনো ভবনের ছাদের অংশ ধসে পড়ে। ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন এবং ভবনটি পরিদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ভূমিকম্পে বুয়েটের আবাসিক ভবনের ছাদের অংশ ধস, আহত ১
২৩ জুন, ২০২৬ ০১:৫৯  

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (২২ জুন) রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত ৯টা ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ডে অনুভূত এই ভূকম্পনের প্রভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবাসিক এলাকার একটি পুরোনো ভবনের ছাদের অংশ ধসে পড়ে। এতে একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পলাশী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যারহাউস কর্মকর্তা অপু কুমার মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পের কারণে ভবনটির ছাদের কার্নিশের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবনটি আবাসিক হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভবনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গুরুতর আহত ব্যক্তিকে পাওয়া না গেলেও পরে জানা যায়, বুয়েটের আবাসিক এলাকার ৩৯-৪০ নম্বর পুরোনো ভবনের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। তবে আহত ব্যক্তির পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ভলকানো ডিসকভারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার গভীরে, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত।

ঘটনার পর বুয়েটের প্রো-ভিসি ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ড. খান মুহাম্মদ আমানত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ভবনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সময়মতো সম্পন্ন করা হলে ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

//ডিবিটেক/টিসিএন/এমইউআইএম//