মঙ্গলে ম্যারাথন জয়ের ইতিহাস গড়ল নাসার রোভার ‘পারসিভিয়ারেন্স’
পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে দূর মঙ্গলের বুকে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার ‘পারসিভিয়ারেন্স’। লাল গ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে টানা পাঁচ বছর পথ চলে একটি পূর্ণ ম্যারাথনের সমান দূরত্ব অর্থাৎ ২৬.২ মাইল (প্রায় ৪২.১৬ কিলোমিটার) পথ অতিক্রম করার গৌরব অর্জন করেছে এই রোবট বিজ্ঞানী।
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি জানিয়েছে, গত ১৪ জুন পারসিভিয়ারেন্স মঙ্গলের বুকে এই ম্যারাথন দূরত্ব অতিক্রম সম্পন্ন করে। সবচেয়ে আদর্শ পরিবেশেও এই রোভারটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ০.১ মাইল। সেই হিসেবে মাত্র পাঁচ বছরে মঙ্গলের পাথুরে ও বালুময় পথ পাড়ি দিয়ে এই দূরত্ব পার করাকে মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে নাসা জানায়, “পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহ বা উপগ্রহের বুকে ম্যারাথন দূরত্ব অতিক্রম করা পারসিভিয়ারেন্স মাত্র দ্বিতীয় অন্বেষণকারী বা এক্সপ্লোরার। এর আগে নাসার আরেকটি বিখ্যাত রোভার ‘অপরচুনিটি’ ২০১৫ সালে প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিল।”
তবে গতির দিক থেকে অপরচুনিটির চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে পারসিভিয়ারেন্স। যেখানে অপরচুনিটি রোভারটির এই ২৬.২ মাইল পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ ১১ বছর ২ মাস, সেখানে পারসিভিয়ারেন্স মাত্র পাঁচ বছরেই তা করে দেখাল। অন্যদিকে, ২০১২ সাল থেকে মঙ্গলে থাকা নাসার আরেক রোভার ‘কিউরিওসিটি’ এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ মাইল পথ পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলের ‘জেজেরো ক্রেটার’ বা জেজেরো গহ্বরের পশ্চিম দিকে একটি প্রাচীন ও কৌতুহলোদ্দীপক অঞ্চলে অনুসন্ধান চালানোর সময় এই ঐতিহাসিক মাইলফলকটি স্পর্শ করে পারসিভিয়ারেন্স। এই অঞ্চলেই রোবটটি একটি প্রাচীন হ্রদের অবশিষ্টাংশ এবং অতীতে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাব্য নানাবিধ লক্ষণ বা জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছে। সম্প্রতি এই পশ্চিমাঞ্চলীয় অভিযান থেকে নিজের একটি চমৎকার ‘সেলফি’ বা ছবিও পৃথিবীতে পাঠিয়েছে এই রোভার বিজ্ঞানী।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





